Read more
পাঁশকুড়ার আদি আমলের যোগাযোগ এবং জীবনযাত্রা
পাঁশকুড়া ও মেদিনীপুর অঞ্চল ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অন্যতম পীঠস্থান। ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলন বা 'আগস্ট বিপ্লব'-এর সময় পাঁশকুড়া ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো ব্রিটিশ শাসনের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল।
পাঁশকুড়া অঞ্চলের স্বাধীনতা সংগ্রামের কিছু রোমাঞ্চকর ও গৌরবময় কাহিনী নিচে দেওয়া হলো:
১. মেচগ্রাম ও খন্ডখোলার বীরত্ব (১৯৪২-এর লড়াই)
১৯৪২ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে মেদিনীপুরের অন্যান্য অংশের মতো পাঁশকুড়াতেও বিদ্রোহ চরম আকার নেয়।
থানা দখল ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: স্থানীয় বিপ্লবীরা সিদ্ধান্ত নেন যে ব্রিটিশ শাসনের যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করতে হবে। মেচগ্রাম ও খন্ডখোলা এলাকার শত শত মানুষ একত্রিত হয়ে রেললাইন উপড়ে ফেলা, টেলিগ্রাফের তার কাটা এবং রাস্তা অবরোধ করার কাজে অংশ নেন।
সেতু ধ্বংসের চেষ্টা: ব্রিটিশ সৈন্যদের চলাফেরা আটকাতে কংসাবতী নদীর ওপরের ছোট ছোট কাঠের পুল বা সাঁকো ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
২. পাঁশকুড়া থানা ঘেরাও ও বীর শহিদদের কথা
স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৪২ সালের ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন।
তমলুক ও কাঁথির মতো পাঁশকুড়াতেও হাজার হাজার মানুষের মিছিল 'থানা দখল' করতে এগিয়ে যায়।
ব্রিটিশ পুলিশ এই মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায়। এই লড়াইয়ে মেদিনীপুরের বহু বীর সন্তান শহিদ হন। পাঁশকুড়া সংলগ্ন এলাকার সাধারণ কৃষকরা লাঠি ও বল্লম নিয়ে ব্রিটিশ বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন।
৩. মাতঙ্গিনী হাজরার প্রভাব ও স্থানীয় নারী শক্তি
যদিও মাতঙ্গিনী হাজরা তমলুকের আদালতে পতাকা তুলতে গিয়ে শহিদ হন, কিন্তু তাঁর সেই বীরত্বের প্রভাব পাঁশকুড়াতেও ব্যাপকভাবে পড়েছিল।
পাঁশকুড়া ও হাউর এলাকার মহিলারাও আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। তাঁরা বিপ্লবীদের লুকিয়ে রাখা, খাবার পৌঁছে দেওয়া এবং ব্রিটিশ পুলিশের গতিবিধির খবর আদান-প্রদান করতেন।
তৎকালীন সময়ে মেচগ্রাম বা হাউর এলাকার সাধারণ মা-বোনেরা শাঁখ বাজিয়ে বা উলুধ্বনি দিয়ে সংকেত পাঠাতেন যে গ্রামে পুলিশ ঢুকেছে।
৪. গোপন আস্তানা ও নীলকুঠির দখল
ব্রিটিশ আমলের পুরনো নীলকুঠি বা সাহেবদের বাংলোগুলো অনেক সময় বিপ্লবীরা দখল করে নিতেন বা সেখানে আগুন লাগিয়ে দিতেন।
পাঁশকুড়া স্টেশনের কাছে এবং নদীর ধারের কিছু পুরনো দালান এক সময় বিপ্লবীদের গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
দেশপ্রেমিক নেতারা কলকাতা থেকে এসে এই সব গোপন ডেরায় মিটিং করতেন এবং রেলপথে লিফলেট বিলি করতেন।
৫. পাঁশকুড়ার এক বীর সন্তান: রজনীকান্ত প্রামাণিক
পাঁশকুড়া অঞ্চলের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অন্যতম উজ্জ্বল নাম হলো রজনীকান্ত প্রামাণিক। তিনি এবং তাঁর সহযোগীরা এই অঞ্চলে কংগ্রেসের আন্দোলনকে সুসংগঠিত করেছিলেন। তাঁদের নেতৃত্বে মেচগ্রাম, খন্ডখোলা ও হাউর এলাকার মানুষ একজোট হয়ে ব্রিটিশদের খাজনা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
৬. 'তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার' ও পাঁশকুড়া
সতীশ চন্দ্র সামন্তের নেতৃত্বে যখন 'তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার' গঠিত হয়, তখন পাঁশকুড়ার উত্তরাংশ সেই প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। স্থানীয় মানুষ ব্রিটিশ আইন অমান্য করে নিজেদের তৈরি 'আদালত' ও 'শাসন ব্যবস্থা' মেনে চলতেন। এটি ছিল ব্রিটিশদের গালে এক বিরাট চপেটাঘাত।
একটি বিশেষ স্মৃতি:
হাউর বা পাঁশকুড়া স্টেশনে ব্রিটিশ সৈন্যদের ট্রেন যাওয়ার সময় স্থানীয় কিশোররা ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে 'বন্দে মাতরম' স্লোগান দিত, যার ফলে অনেক সময় ট্রেন থামিয়ে পুলিশ ধরপাকড় করত। এই ছোট ছোট প্রতিবাদগুলোই পরে বিশাল আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল।
Gemini said
পাঁশকুড়ার পার্শ্ববর্তী মেচগ্রাম, খন্ডখোলা এবং হাউর—এই তিনটি এলাকারই নিজস্ব ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং পুরনো রাস্তার সাথে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই অঞ্চলগুলো মূলত মেদিনীপুর ক্যানেল এবং পুরনো ট্রাঙ্ক রোডের (Old Trunk
Road) সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত ছিল।
নিচে এই এলাকাগুলোর কিছু বিশেষ ঐতিহাসিক স্মৃতি ও ঘটনা তুলে ধরা হলো:
১. মেচগ্রাম (Mechgram): বাণিজ্যের মিলনস্থল
মেচগ্রাম এলাকাটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ঘাটাল-পাঁশকুড়া রোড এবং বর্তমান জাতীয় সড়কের একটি প্রধান সংযোগস্থল।
পুরনো স্মৃতি: একসময় মেচগ্রাম ছিল বিশাল এক ধান ও খড়ের গঞ্জ। এখান থেকে গরুর গাড়িতে করে পণ্য পাঁশকুড়া স্টেশনে বা ক্যানালের ঘাটে যেত।
পরিবর্তন: আগে এটি ছিল একটি শান্ত গ্রাম্য মোড়, যেখানে পথিকরা বটগাছের তলায় বিশ্রাম নিতেন। ব্রিটিশ আমলে নীলচাষের সময় এই অঞ্চলের রাস্তাগুলো দিয়ে নীলকুঠির সাহেবদের ঘোড়সওয়াররা যাতায়াত করত বলে শোনা যায়।
২. খন্ডখোলা (Khundkhola): ক্যানাল ও লকগেটের ইতিহাস
খন্ডখোলা এলাকাটি সরাসরি মেদিনীপুর ক্যানেলের ইতিহাসের সাথে যুক্ত।
লকগেটের গল্প: এখানে ক্যানালের ওপর যে পুরনো ব্রিজ এবং জল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ছিল, তা ব্রিটিশ প্রকৌশলবিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন।
বিশেষ ঘটনা: কথিত আছে, ব্রিটিশ আমলে যখন ক্যানাল দিয়ে বড় স্টিমার চলত, তখন খন্ডখোলার বাসিন্দারা ক্যানালের পাড়ে দাঁড়িয়ে সাহেবদের যাতায়াত দেখতেন। এই জলপথটিই ছিল সেকালে কলকাতা যাওয়ার 'হাইওয়ে'। খন্ডখোলার পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তাটি মূলত ক্যানালের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যা পরে সাধারণের চলাচলের রাস্তায় পরিণত হয়।
৩. হাউর (Haur): রেল ও সড়কের সন্ধিস্থল
হাউর স্টেশনের সংলগ্ন এলাকাটি পাঁশকুড়ার আদি যোগাযোগ ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।
পুরনো ট্রাঙ্ক রোড: হাউরের ওপর দিয়ে যাওয়া পুরনো রাস্তাটি একসময় মেদিনীপুর থেকে কলকাতার সংযোগকারী প্রধান পথ ছিল।
রেলপথের প্রভাব: ১৮৯৯-১৯০০ সালে যখন বেঙ্গল নাগপুর রেলওয়ে (BNR) তৈরি হয়, তখন হাউর স্টেশনের গুরুত্ব বেড়ে যায়। অনেক দূরপাল্লার যাত্রী যারা মূল পাঁশকুড়া শহরে যেতেন না, তারা হাউরে নেমে পালকি বা গরুর গাড়িতে করে গ্রামের ভেতরের দিকে যেতেন।
স্মৃতি: হাউর সংলগ্ন এলাকায় পুরনো কিছু দাতব্য চিকিৎসালয় এবং পাঠশালা ছিল, যা ব্রিটিশ আমলের শেষ দিকে গড়ে উঠেছিল।
৪. একটি বিশেষ ঐতিহাসিক ঘটনা: 'নীল বিদ্রোহ' ও স্থানীয় প্রতিরোধ
এই অঞ্চলের পুরনো রাস্তাগুলো (বিশেষ করে মেচগ্রাম থেকে হাউর যাওয়ার মাটির পথ) দিয়ে ব্রিটিশ নীলকর সাহেবরা যাতায়াত করত। শোনা যায়, স্থানীয় কৃষকরা এই রাস্তাগুলোতেই একত্রিত হয়ে নীল চাষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। আজও কিছু পুরনো ভিটে বা ধ্বংসাবশেষকে স্থানীয়রা 'সাহেবদের কুঠি' বা 'কাছারি বাড়ি' বলে চিহ্নিত করেন।
৫. ক্ষীরাই-এর ফুলের রাস্তা (The
Flower Route)
হাউর এবং পাঁশকুড়ার মাঝামাঝি ক্ষীরাই এলাকাটি এখন 'ফুলের উপত্যকা' হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এর আদি ইতিহাস বলছে, এই কংসাবতী নদীর পাড় দিয়ে সরু আলপথ বা রাস্তা দিয়েই জেলেরা এবং চাষিরা ভোরে বাজার ধরতে যেতেন। আজ সেই রাস্তাগুলোই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
পাঁশকুড়ার আদি আমলের যোগাযোগ এবং জীবনযাত্রার সাথে জড়িয়ে থাকা কিছু নির্দিষ্ট স্মৃতি ও পুরনো রাস্তার ইতিহাস সত্যিই বেশ রোমাঞ্চকর। নিচে সেই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্মৃতি তুলে ধরা হলো:
১. পুরনো জগন্নাথ সড়ক (The Old Pilgrim Road)
রেলপথ হওয়ার অনেক আগে থেকেই পাঁশকুড়ার বুক চিরে একটি রাস্তা ছিল যা মূলত পুরী বা জগন্নাথ ধামে যাওয়ার অন্যতম পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
স্মৃতি: এই রাস্তা দিয়ে পদব্রজে বা পালকিতে করে তীর্থযাত্রীরা যেতেন। রাস্তার ধারে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বড় বড় গাছ এবং জলাশয় (পুকুর) খনন করা হয়েছিল, যার চিহ্ন আজও পাঁশকুড়ার অনেক গ্রামে দেখা যায়।
এই পথটি বর্তমানের NH16-এর সমান্তরালে বা কিছুটা ভেতর দিয়ে গ্রামীণ এলাকার ওপর দিয়ে যেত।
২. পাঁশকুড়া-ঘাটাল স্টিমার সার্ভিস (ক্যানেলের স্মৃতি)
১৮৭০-এর দশকে মেদিনীপুর ক্যানেল চালু হওয়ার পর স্টিমার চলাচল ছিল এক বড় বিস্ময়।
স্মৃতি: বয়স্কদের মুখে শোনা যায়, তখন স্টিমারে চড়ে কলকাতা যাওয়া ছিল এক বিলাসিতা। স্টিমারগুলো যখন পাঁশকুড়ার লকগেট দিয়ে পার হতো, তখন লকগেটের জল ছাড়ার শব্দ এবং বড় বড় চাকার আওয়াজ শুনতে নদীর পাড়ে ভিড় জমে যেত।
তখন এই ক্যানেল ছিল আজকের এক্সপ্রেসওয়ের মতো। মেদিনীপুর থেকে পণ্যবাহী বড় বড় 'বজরা' বা নৌকা এই পথে নিয়মিত যাতায়াত করত।
৩. সদর ঘাট ও ঘোড়ার গাড়ির আস্তানা
পুরানো বাস স্ট্যান্ডের কাছেই এক সময় ছিল ঘোড়ার গাড়ির স্ট্যান্ড।
স্মৃতি: রেল আসার পর থেকে স্টেশন থেকে নদী বা ক্যানেলের ঘাট পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য ঘোড়ার গাড়ি (টমটম) চলত। বিশেষ করে ঘাটাল বা তমলুক থেকে আসা জমিদাব ও ব্যবসায়ীরা এই গাড়িগুলো ভাড়া করতেন।
আজও পাঁশকুড়ার কিছু পুরনো গলির মোড়ে সেই আমলের পুরনো বড় বড় ইটের তৈরি চাতাল বা আস্তাবল দেখা যায়।
৪. কংসাবতী নদীর প্রাচীন খেয়াঘাট
কংসাবতী নদীর ওপর ব্রিজ হওয়ার আগে খেয়া নৌকা ছিল একমাত্র ভরসা।
স্মৃতি: বর্ষাকালে কংসাবতী যখন ফুলে-ফেঁপে উঠত, তখন পারাপার ছিল বেশ বিপজ্জনক। এই খেয়াঘাটের মাঝিদের গান এবং ঘাটের ধারের পুরনো হাট (যা বর্তমানের পুরনো বাজার) ছিল পাঁশকুড়ার আসল প্রাণকেন্দ্র।
৫. নীলকুঠির স্মৃতি
পাঁশকুড়া ও মেদিনীপুরের অনেক জায়গায় ব্রিটিশদের নীলকুঠি ছিল।
স্মৃতি: ক্যানেল ও নদীপথের সুবিধার্থে ব্রিটিশরা এই অঞ্চলের নীল চাষের পণ্য সহজে কলকাতায় পাঠাত। আজও পাঁশকুড়ার আশেপাশে কিছু ধ্বংসস্তূপ বা পুরনো দালান পাওয়া যায়, যেগুলোকে স্থানীয়রা "কুঠিবাড়ি" বলে ডাকেন।
একটি বিশেষ স্মৃতি: পাঁশকুড়ার প্রাচীন মেলা
পুরানো যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই পাঁশকুড়ার অনেক প্রাচীন মেলা (যেমন রথযাত্রা বা মেলাগুলো) নদীর ধার ঘেঁষে গড়ে উঠেছিল। জলপথে ব্যবসায়ীরা আসতেন বলে এই মেলাগুলো বিশাল রূপ নিত।
পাঁশকুড়ার আদি বা প্রাচীন যোগাযোগ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি ছিল জলপথ। রেললাইন বা পাকা রাস্তা হওয়ার অনেক আগে থেকেই পাঁশকুড়া তার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
নিচে পাঁশকুড়ার আদি যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রধান মাধ্যমগুলো আলোচনা করা হলো:
১. জলপথ (প্রধান মাধ্যম)
প্রাচীনকাল থেকেই কংসাবতী (Cossye) নদী ছিল পাঁশকুড়ার যোগাযোগের প্রধান ধমনী।
নৌকা ও বজরা: মেদিনীপুরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধান, চাল, রেশম এবং নীল এই নদীপথেই কলকাতায় পাঠানো হতো।
সদর ঘাট: বর্তমান পুরানো বাজার সংলগ্ন এলাকাটি ছিল একটি ব্যস্ত নদী বন্দর বা ঘাট। এখান থেকেই বড় বড় নৌকায় পণ্য বোঝাই করা হতো।
২. মেদিনীপুর ক্যানেল (১৮৫০-এর দশক)
ব্রিটিশ আমলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে মেদিনীপুর ক্যানেল তৈরির পর।
এই ক্যানেলটি তৈরির ফলে পাঁশকুড়া থেকে সরাসরি স্টিমারে করে উলুবেড়িয়া এবং সেখান থেকে কলকাতায় যাওয়া যেত।
এটি ছিল তৎকালীন সময়ের সবথেকে সস্তা এবং সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেই সময় বড় বড় স্টিমার এই ক্যানেল দিয়ে যাতায়াত করত।
৩. প্রাচীন সড়কপথ (পায়ে হাঁটা ও গরুর গাড়ি)
পাঁশকুড়ার ওপর দিয়ে একটি প্রাচীন রাস্তা ছিল যা 'পুরানো জগন্নাথ সড়ক' বা বারাণসী রোডের শাখা হিসেবে পরিচিত ছিল।
মানুষ মূলত পায়ে হেঁটে বা পালকিতে করে যাতায়াত করত।
মালপত্র বহনের জন্য গরুর গাড়ি এবং ঘোড়ার গাড়ি ছিল একমাত্র ভরসা।
ঘাটাল থেকে পাঁশকুড়া হয়ে তমলুক যাওয়ার জন্য মাটির রাস্তা ব্যবহার করা হতো।
৪. রেলপথের আগমন (পরিবর্তনকাল)
যোগাযোগের ইতিহাসে সবথেকে বড় মোড় আসে ১৮৯৯-১৯০০ সালে, যখন বেঙ্গল নাগপুর রেলওয়ে (BNR) হাওড়া-খড়গপুর শাখাটি চালু করে।
রেল স্টেশন হওয়ার পর জলপথের গুরুত্ব ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
রেলস্টেশনকে কেন্দ্র করেই বর্তমানের আধুনিক পাঁশকুড়া শহরটি গড়ে উঠতে শুরু করে।
৫. পাঁশকুড়ার লকগেট ও পরিবহন
১৮৭০-এর দশকে তৈরি হওয়া পাঁশকুড়ার লকগেটটি জলপথের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজ করত। সেই সময় এই লকগেটটি দেখতে এবং স্টিমারে চড়তে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত।
এক কথায়: রেলপথ আসার আগে পাঁশকুড়ার মানুষ মূলত কংসাবতী নদী এবং মেদিনীপুর ক্যানেলের ওপর নির্ভর করেই কলকাতা বা মেদিনীপুরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করত।
পাঁশকুড়ার এই বিখ্যাত অ্যানিকাট (Anicut) বা বাঁধ এবং লকগেটটি নির্মাণের পেছনে কোনো একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির চেয়ে ব্রিটিশ ভারতের 'বেঙ্গল ইরিগেশন ডিপার্টমেন্ট' (Bengal
Irrigation Department)-এর প্রকৌশলীদের যৌথ ভূমিকা ছিল বেশি।
তবে সেই সময়ে মেদিনীপুর ক্যানেল প্রকল্পের প্রধান পরিকল্পনাকারী এবং তদারককারী হিসেবে যার নাম সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে আছে, তিনি হলেন:
স্যার আর্থার কটন (Sir Arthur
Cotton)
তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন প্রখ্যাত সেচ প্রকৌশলী। যদিও তিনি মূলত দক্ষিণ ভারতের 'গ্র্যান্ড অ্যানিকাট' বা গোদাবরী নদীর বাঁধের জন্য বিখ্যাত, কিন্তু মেদিনীপুর ক্যানেল এবং পাঁশকুড়ার লকগেটের প্রাথমিক নকশা ও পরিকল্পনায় তার বিশেষ অবদান বা পরামর্শ ছিল। তাকে ভারতের "সেচ ব্যবস্থার জনক" বলা হয়।
নির্মাণের সাথে যুক্ত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
ইঞ্জিনিয়ারিং তদারকি: এই প্রকল্পটি মূলত 'ইস্ট ইন্ডিয়া ইরিগেশন অ্যান্ড ক্যানাল কোম্পানি' (East
India Irrigation and Canal Company) শুরু করেছিল। ১৮৬৯ সালে ব্রিটিশ সরকার এটি তাদের নিজেদের হাতে নেয়।
তৎকালীন গভর্নর: ১৮৬০-এর দশকে যখন এই কাজ জোরালোভাবে শুরু হয়, তখন বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর ছিলেন স্যার সিসিল বিডন (Sir Cecil
Beadon)। তার শাসনামলেই এই সেচ প্রকল্পের বড় অংশ অনুমোদিত হয়।
নির্মাণকাল: পাঁশকুড়ার এই লকগেট ও ক্যানাল সিস্টেমটি মূলত ১৮৬৬ থেকে ১৮৭৩ সালের মধ্যে পূর্ণতা পায়।
লকগেটটির বিশেষত্ব:
এই লকগেটটি তৈরির মূল উদ্দেশ্য ছিল কংসাবতী নদীর জলের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ করা এবং ক্যানেলে স্টিমার বা বড় নৌকা চলাচলের পথ সুগম করা। ব্রিটিশ আমলের সেই ইটের গাঁথনি এবং লোহার কারুকার্য আজও পাঁশকুড়ার ইতিহাসের এক জীবন্ত নিদর্শন।
১৮৫০-এর দশকে ব্রিটিশ আমলে মেদিনীপুর ক্যানেল (Medinipur
Canal) তৈরির ইতিহাস ভারতের সেচ ও জলপথ পরিবহনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই ক্যানেলটি মূলত কংসাবতী (Cossye) নদীকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছিল। এর মূল ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিচে দেওয়া হলো:
১. কেন তৈরি করা হয়েছিল? (উদ্দেশ্য)
সেই সময়ে মেদিনীপুর অঞ্চলে ঘনঘন খরা এবং দুর্ভিক্ষ হতো। ব্রিটিশ সরকার মূলত দুটি উদ্দেশ্যে এই ক্যানেল তৈরির পরিকল্পনা করে:
সেচ ব্যবস্থা: কৃষিকাজে জলের জোগান নিশ্চিত করা যাতে ফসলের উৎপাদন বাড়ে এবং দুর্ভিক্ষ রোধ করা যায়।
জলপথ পরিবহন: কলকাতা থেকে মেদিনীপুর পর্যন্ত পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য একটি সহজ জলপথ তৈরি করা।
২. নির্মাণের সময়কাল ও প্রকৌশল
শুরু: ১৮৬৬ সালে এই ক্যানেলের খনন কাজ পুরোদমে শুরু হয়, তবে এর পরিকল্পনা ও প্রাথমিক কাজ ১৮৫০-এর দশকের শেষের দিকেই শুরু হয়েছিল।
উদ্বোধন: এটি ১৮৭৩-৭৪ সাল নাগাদ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হয়।
এটি প্রায় ৭২ মাইল (১১৬ কিমি) দীর্ঘ ছিল এবং এর সাথে অনেকগুলো ছোট ছোট শাখা খাল যুক্ত ছিল।
৩. পাঁশকুড়া ও মেদিনীপুর ক্যানেল
পাঁশকুড়ার ইতিহাসে এই ক্যানেলের ভূমিকা অপরিসীম:
লকগেট নির্মাণ: পাঁশকুড়াতে কংসাবতী নদীর ওপর একটি বড় 'অ্যানিকাট' বা বাঁধ এবং লকগেট তৈরি করা হয়। এটি ছিল তৎকালীন প্রকৌশল বিদ্যার এক বিস্ময়।
বাণিজ্যিক কেন্দ্র: এই ক্যানেল তৈরির ফলে পাঁশকুড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ 'রিভার পোর্ট' বা নদী বন্দরে পরিণত হয়। মেদিনীপুর থেকে চাল, কাঠ এবং অন্যান্য পণ্য এই ক্যানেল দিয়ে কলকাতায় পাঠানো হতো।
অর্থনৈতিক পরিবর্তন: ক্যানেলের জল ব্যবহার করে চাষাবাদ শুরু হওয়ায় পাঁশকুড়া ও সংলগ্ন এলাকায় সবজি ও ফুলের চাষ বৃদ্ধি পায়, যা আজও এই অঞ্চলের অর্থনীতির মূল ভিত্তি।
৪. পরিবহনের বিবর্তন
রেলপথ আসার আগে এই ক্যানেলটিই ছিল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। স্টিমার এবং বড় বড় নৌকা এই পথ দিয়ে চলাচল করত। পাঁশকুড়া স্টেশনের কাছে যে 'পুরানো বাজার' বা 'সদর ঘাট' এলাকা, সেটি এই ক্যানেল ও নদীর বাণিজ্যিক গুরুত্বের কারণেই গড়ে উঠেছিল।
৫. বর্তমান অবস্থা
বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে রেল ও সড়কপথের উন্নতি হওয়ায় ক্যানেলের গুরুত্ব কমতে শুরু করে। বর্তমানে এটি মূলত সেচের কাজেই ব্যবহৃত হয়। তবে আজও এই ক্যানেলের পাড় এবং ব্রিটিশ আমলের তৈরি লকগেটগুলো মেদিনীপুর ও পাঁশকুড়ার ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
পাঁশকুড়া পুরানো বাস স্ট্যান্ডের ইতিহাস মূলত কংসাবতী নদী এবং মেদিনীপুর ক্যানেলের বাণিজ্যিক বিবর্তনের সাথে জড়িয়ে আছে। বর্তমানের আধুনিক বাস টার্মিনালগুলো হওয়ার অনেক আগে থেকেই এই এলাকাটি ছিল দক্ষিণ মেদিনীপুরের যাতায়াতের প্রাণকেন্দ্র।
পুরানো বাস স্ট্যান্ডের ইতিহাসের প্রধান পর্যায়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. মেদিনীপুর ক্যানেল ও 'সদর ঘাট' (সূচনা লগ্ন)
১৮৫০-এর দশকে যখন ব্রিটিশরা মেদিনীপুর ক্যানেল তৈরি করে, তখন পাঁশকুড়ার কংসাবতী নদীর তীরবর্তী এলাকাটি একটি বড় বাণিজ্যিক ঘাটে পরিণত হয়। একে বলা হতো 'সদর ঘাট'।
সে যুগে স্থলপথের চেয়ে জলপথ বেশি সক্রিয় ছিল।
ঘাটাল, দাসপুর এবং সবং এলাকা থেকে মানুষ নৌকায় করে এখানে আসত।
এই ঘাটের পাশেই প্রথম ঘোড়ার গাড়ি এবং পরবর্তীকালে বাসের আস্তানা গড়ে ওঠে, যা আজ 'পুরানো বাস স্ট্যান্ড' নামে পরিচিত।
২. ঘাটাল-পাঁশকুড়া রোডের গুরুত্ব
পুরানো বাস স্ট্যান্ডের প্রসারের মূল কারণ ছিল ঘাটাল-পাঁশকুড়া রোড। স্বাধীনতার পর থেকে ঘাটাল মহকুমার মানুষের জন্য কলকাতা বা খড়গপুর যাওয়ার একমাত্র ভরসা ছিল এই স্ট্যান্ডটি।
১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে যখন কাঠের বডির বাস চলত, তখন এই পুরানো স্ট্যান্ড থেকেই 'কলকাতা-ঘাটাল' রুটের বাসগুলো যাতায়াত করত।
পাঁশকুড়া স্টেশনের ঠিক গা ঘেঁষে অবস্থান হওয়ার কারণে রেল ও সড়কপথের এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি হয়েছিল এখানে।
৩. ফুল ও সবজি বাণিজ্যের কেন্দ্র
পাঁশকুড়া তার উর্বর জমির জন্য বিখ্যাত। পুরানো বাস স্ট্যান্ডটি শুধুমাত্র যাত্রীদের জন্য নয়, বরং ক্ষীরাই ও মেদিনীপুরের ফুলের বাজার এবং গ্রামীণ কৃষিপণ্য পরিবহনের প্রধান কেন্দ্র ছিল। ভোরে এখান থেকে ঝুড়ি ঝুড়ি ফুল ও সবজি বাসে করে মেদিনীপুর বা কলকাতার দিকে পাঠানো হতো।
কেন এটিকে এখন 'পুরানো' বলা হয়?
জাতীয় সড়কের (NH16) সম্প্রসারণ এবং শহরতলি এলাকার প্রসারের ফলে বেশ কিছু পরিবর্তন আসে:
জায়গার অভাব: স্টেশনের কাছে রাস্তা সরু হওয়ায় এবং যানজট বাড়ায় বড় বাসগুলোর জন্য অসুবিধা তৈরি হয়।
নতুন টার্মিনাল: জাতীয় সড়কের ধারে নতুন বাস স্টপেজ এবং টার্মিনাল তৈরি হওয়ার ফলে বড় দূরপাল্লার বাসগুলো সেখানে সরে যায়।
লোকাল হাব: বর্তমানে এটি মূলত পাঁশকুড়া-ঘাটাল, পাঁশকুড়া-তমলুক বা পাঁশকুড়া-হাওড়া রুটের ছোট বাস এবং লোকাল পরিবহনের (টোটো, অটো) মূল কেন্দ্র হিসেবে রয়ে গেছে।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব
পুরানো বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন পাঁশকুড়া বাজার এবং সংলগ্ন এলাকায় অনেক প্রাচীন মন্দির ও পুরনো দোকানপাট রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে এক সময় এটিই ছিল এলাকার প্রধান অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড। এখনো পাঁশকুড়া স্টেশনে নামলে মানুষ এই পুরানো বাস স্ট্যান্ডের ভিড় এবং চেনা ব্যস্ততাকেই শহরের আসল রূপ বলে মনে করে।
পাঁশকুড়া বাস স্ট্যান্ডের ইতিহাস সরাসরি কোনো প্রাচীন পুঁথিতে না থাকলেও, এই অঞ্চলের পরিবহন ব্যবস্থা ও ভৌগোলিক বিবর্তনের সাথে এর এক নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। পাঁশকুড়া দীর্ঘকাল ধরে মেদিনীপুর ও কলকাতার মধ্যে একটি প্রধান সংযোগস্থল বা 'ট্রানজিট পয়েন্ট' হিসেবে কাজ করে আসছে।
পাঁশকুড়া বাস স্ট্যান্ডের বিবর্তন ও গুরুত্বের কয়েকটি প্রধান দিক নিচে দেওয়া হলো:
১. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নামকরণ
প্রাচীনকালে পাঁশকুড়া অঞ্চলটি কাশীজোড়া পরগনার অন্তর্গত ছিল। ব্রিটিশ আমলে (১৮৫২ সালের নথিতে) এই এলাকাকে 'পাঁচকুড়া ঘাট'
(Panchkoora Ghat) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কংসাবতী নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ার কারণে এটি আগে মূলত জলপথের মাধ্যমে বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল। পরবর্তীকালে সড়কপথের উন্নতির সাথে সাথে বাস স্ট্যান্ডের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়।
২. মেদিনীপুর ক্যানেল ও পরিবহন কেন্দ্র
১৮৫২ সাল নাগাদ কৃষিকাজ ও বাণিজ্যের সুবিধার্থে মেদিনীপুর ক্যানেল খনন করা হয়। ১৮৯৬ সালে এই এলাকায় যে 'লকগেট' তৈরি হয়েছিল, তার পার্শ্ববর্তী এলাকাটি 'সদর ঘাট' নামে পরিচিত ছিল। এই সদর ঘাটকে কেন্দ্র করেই পুরনো বাজার ও যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, যা বর্তমান বাস স্ট্যান্ডের প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করে।
৩. সড়কপথের বিপ্লব (NH6/NH16)
পাঁশকুড়ার পরিবহন ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক (বর্তমানে NH16 বা মুম্বাই রোড) তৈরি হওয়ার পর। এই রাস্তাটি পাঁশকুড়াকে সরাসরি কলকাতা ও খড়গপুরের সাথে যুক্ত করে। এর ফলে পাঁশকুড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনাল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যেখান থেকে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বাস চলাচল শুরু হয়।
বাস স্ট্যান্ডের বর্তমান গুরুত্ব
বর্তমানে পাঁশকুড়া বাস স্ট্যান্ড মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত বা দুটি ভিন্ন দিক দিয়ে পরিচিত:
পুরানো বাজার/স্টেশন এলাকা: এখান থেকে প্রধানত লোকাল রুট ও গ্রামীণ এলাকার বাসগুলো যাতায়াত করে।
জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকা: দীর্ঘপাল্লার সরকারি (SBSTC) এবং বেসরকারি বাসগুলোর জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টপেজ।
প্রধান সংযোগস্থলসমূহ:
কলকাতা (ধর্মতলা): নিয়মিত যাতায়াত।
ঘাটাল-পাঁশকুড়া রুট: মেদিনীপুর জেলার উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে সংযোগকারী প্রধান রাস্তা।
দীঘা/হলদিয়া: উপকূলীয় এলাকায় পর্যটক ও শ্রমিকদের যাতায়াতের প্রধান পথ।
একটি মজার তথ্য
অনেকের মতে, পাঁশকুড়া নামটি এসেছে 'পান' এবং 'কুড়া' (স্তূপ) থেকে। ঐতিহাসিক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে এই বাস স্ট্যান্ডটি আজও ফুল (ক্ষীরাই অঞ্চল থেকে আসা) এবং সবজি বাণিজ্যের অন্যতম বড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

0 Reviews