Read more
মেদিনীপুর জেলার ঐতিহাসিক পরগনা
কাশীজোড়া (Kasijora)
মেদিনীপুর জেলার ঐতিহাসিক পরগনাগুলোর মধ্যে কাশীজোড়া (Kasijora) অত্যন্ত প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পাশকুঁড়া, ঘাটাল এবং ময়না অঞ্চলের একটি বড় অংশ এই পরগনার অন্তর্ভুক্ত ছিল। কাশীজোড়ার ইতিহাস যেমন শৌর্য-বীর্যের, তেমনই এটি আইনি এবং প্রশাসনিক বিবর্তনের এক সাক্ষী। নিচে এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হলো:
কাশীজোড়া রাজবংশের সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া কিছুটা কঠিন, কারণ প্রাচীন রেকর্ডগুলোর অনেক কিছুই সময়ের সাথে হারিয়ে গেছে। তবে মেদিনীপুরের স্থানীয় ইতিহাস এবং ব্রিটিশ গেজেটিয়ার (যেমন: L.S.S. O'Malley-র মেদিনীপুর গেজেটিয়ার) থেকে এই রাজবংশের প্রধান শাসকদের একটি পর্যায়ক্রমিক তালিকা পাওয়া যায়।
এই বংশের শাসকরা মূলত 'রায়' এবং পরবর্তীতে 'রাজা' উপাধি ব্যবহার করতেন।
কাশীজোড়া রাজবংশের প্রধান শাসকদের তালিকা
|
ক্রমিক নং |
শাসকের নাম |
আনুমানিক সময়কাল / উল্লেখযোগ্য তথ্য |
|
১ |
বিষ্ণুদাস হাজরা |
বংশের প্রতিষ্ঠাতা (মোগল সম্রাট আকবরের সময়কাল)। |
|
২ |
মনোহর রায় |
বংশের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করেন। |
|
৩ |
রামেশ্বর রায় |
তিনি একজন প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন। |
|
৪ |
যশোদানন্দন রায় |
১৭১১ - ১৭৪৮ সালের মধ্যবর্তী সময়ে শাসন করেন। |
|
৫ |
রাজা সুন্দরনারায়ণ রায় |
১৭৪৮ - ১৭৮২ (আনুমানিক)। তিনি এই বংশের সবচেয়ে আলোচিত রাজা। তাঁর সময়েই বিখ্যাত 'কাসিজোড়া মামলা' হয়েছিল। |
|
৬ |
রাজা বীরনারায়ণ রায় |
১৭৮৩ সালে তিনি জমিদারির দায়িত্ব পান। |
|
৭ |
রাজা রূপনারায়ণ রায় |
বীরনারায়ণের পরবর্তী উত্তরসূরি। |
|
৮ |
রানি জানকী দেবী |
(পরোক্ষ শাসন) বীরনারায়ণের মৃত্যুর পর কিছুকাল বিষয়সম্পত্তি দেখাশোনা করেন। |
বিষ্ণুদাস হাজরা
বিষ্ণুদাস হাজরা ছিলেন মেদিনীপুর জেলার কাশীজোড়া (Kasijora) রাজবংশের আদি পুরুষ বা প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর হাত ধরেই এই অঞ্চলের এক সমৃদ্ধ ইতিহাসের সূচনা হয়েছিল।
বিষ্ণুদাস হাজরা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. বংশ পরিচয় ও সামাজিক অবস্থান
জাতি: তিনি জাতিতে ছিলেন মাহিষ্য। প্রাচীন মেদিনীপুর ও তমলুক অঞ্চলে এই সম্প্রদায়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ছিল অত্যন্ত প্রবল।
উপাধি: তাঁর আদি পদবি ছিল 'হাজরা'। পরবর্তী প্রজন্মের শাসকরা মোগল ও ব্রিটিশদের কাছ থেকে 'রায়' এবং 'রাজা' উপাধি লাভ করেন।
২. মোগল আমল ও জমিদারির পত্তন
সময়কাল: তিনি মোগল সম্রাট আকবরের সমসাময়িক ছিলেন বলে মনে করা হয়।
প্রতিষ্ঠা: কথিত আছে, বিষ্ণুদাস হাজরা তাঁর কর্মদক্ষতা এবং শৌর্যের মাধ্যমে মোগল প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তৎকালীন উড়িষ্যা সরকারের অধীনে 'সরকার গোয়াসপুর'-এর অন্তর্ভুক্ত এই অঞ্চলে তিনি একটি ছোট জমিদারি বা জায়গির লাভ করেন, যা পরবর্তীতে বিশাল 'কাশীজোড়া পরগনা' হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
৩. প্রশাসনিক কেন্দ্র
তিনি তাঁর শাসনের মূল কেন্দ্র বা রাজধানী স্থাপন করেছিলেন বর্তমান পাঁশকুড়া এবং ঘাটাল সংলগ্ন কোনো এলাকায়। তাঁর হাত ধরেই এই জলাকীর্ণ অঞ্চলটি ধীরে ধীরে কৃষিভিত্তিক বসতিতে রূপান্তরিত হতে শুরু করে।
৪. ঐতিহাসিক তাৎপর্য
বিষ্ণুদাস হাজরার পরবর্তী বংশধরেরাই (যেমন রাজা সুন্দরনারায়ণ রায়) এই পরগনাকে মেদিনীপুরের অন্যতম শক্তিশালী জমিদারিতে পরিণত করেছিলেন।
মেদিনীপুরের স্থানীয় লোকগাথা অনুযায়ী, তিনি অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ এবং প্রজাবৎসল ছিলেন। এলাকার পুকুর খনন এবং জনহিতকর কাজে তাঁর বিশেষ অবদান ছিল বলে জানা যায়।
মনোহর রায়
কাশীজোড়া রাজবংশের ইতিহাসে মনোহর রায় ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ একজন শাসক। তিনি বংশের প্রতিষ্ঠাতা বিষ্ণুদাস হাজরার পরবর্তী প্রজন্মের একজন যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত।
তাঁর সম্পর্কে ঐতিহাসিক কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. রাজবংশের বিস্তার: বিষ্ণুদাস হাজরা যে জমিদারির পত্তন করেছিলেন, মনোহর রায় তাকে একটি সুসংগঠিত এবং শক্তিশালী 'পরগনা' হিসেবে গড়ে তোলেন। তাঁর আমলেই কাশীজোড়া জমিদারি পার্শ্ববর্তী এলাকায় আরও বিস্তৃত হয়।
২. 'রায়' উপাধি: মনে করা হয়, তাঁর শাসনকাল থেকেই এই পরিবারটি বংশানুক্রমিক 'রায়' উপাধি ব্যবহার শুরু করে, যা পরবর্তীতে মোগল ও ব্রিটিশ আমলে 'রাজা' উপাধিতে উন্নীত হয়েছিল।
৩. মোগল ও নবাবী আমলের সম্পর্ক: মনোহর রায় তৎকালীন বাংলার নবাব বা মোগল সুবাদারদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। তিনি নিয়মিত রাজস্ব প্রদান এবং সুশাসনের জন্য পরিচিত ছিলেন, যার ফলে তাঁর জমিদারির নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছিল।
৪. কৃষি ও প্রজাকল্যাণ: তাঁর সময়ে কাশীজোড়া পরগনায় কৃষি ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি ঘটে। বিশেষ করে কংসাবতী নদীর প্লাবন থেকে জমি রক্ষা করার জন্য বাঁধ নির্মাণ এবং পুকুর খননের কাজে তিনি বিশেষ নজর দিয়েছিলেন।
৫. সাংস্কৃতিক অবদান: মনোহর রায়ের আমলে এই অঞ্চলে বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাব বাড়তে থাকে। তিনি বেশ কিছু মন্দির নির্মাণ এবং পণ্ডিতদের ভূমি দান করেছিলেন বলে স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ পাওয়া যায়।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, মনোহর রায় ছিলেন কাশীজোড়া রাজবংশের সেই স্থপতি, যিনি একটি ছোট জায়গিরকে মেদিনীপুরের অন্যতম প্রধান জমিদারিতে রূপান্তর করার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।
কাশীজোড়া রাজবংশের ইতিহাসে রামেশ্বর রায় ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন শাসক, যিনি এই জমিদারির শ্রীবৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক দৃঢ়তা আনয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি মনোহর রায়ের পরবর্তী বংশধর এবং যশোদানন্দন রায়ের পূর্বসূরি ছিলেন।
রামেশ্বর রায়
রামেশ্বর রায় সম্পর্কে প্রধান ঐতিহাসিক তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. রাজবংশের শক্তিশালীকরণ
রামেশ্বর রায়ের সময়ে কাশীজোড়া জমিদারি একটি পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী পরগনা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের তৈরি করা ভিত্তিপ্রস্তরকে আরও মজবুত করেন। তাঁর শাসনামলে জমিদারির সীমানা অনেকটা বিস্তৃত হয়েছিল।
২. মোগল প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক
তৎকালীন মোগল আমলের শেষভাগে এবং নবাবী আমলের শুরুতে রামেশ্বর রায় অত্যন্ত চতুরতার সাথে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখেছিলেন। তিনি নিয়মিত রাজস্ব প্রদান নিশ্চিত করে নবাবের দরবারে নিজের বিশ্বস্ততা প্রমাণ করেছিলেন, যার ফলে কাশীজোড়া পরগনায় তাঁর একাধিপত্য বজায় ছিল।
৩. জনহিতকর কাজ ও কৃষি উন্নয়ন
মেদিনীপুরের নদীমাতৃক অঞ্চলে কৃষিই ছিল প্রধান ভিত্তি। রামেশ্বর রায় নিম্নোক্ত কাজগুলোর জন্য পরিচিত ছিলেন:
জলাশয় খনন: প্রজাদের পানীয় জল এবং সেচের সুবিধার জন্য তিনি বেশ কিছু বড় দিঘি ও পুকুর খনন করিয়েছিলেন।
বাঁধ নির্মাণ: কংসাবতী (কাঁসাই) নদীর বন্যায় ফসল রক্ষা করার জন্য তিনি মাটির বাঁধ নির্মাণে উদ্যোগী হয়েছিলেন।
৪. ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অবদান
তিনি পরম বৈষ্ণব এবং ধর্মপ্রাণ শাসক ছিলেন। তাঁর সময়ে কাশীজোড়া অঞ্চলে বেশ কিছু টেরাকোটা মন্দির নির্মিত হয়েছিল (যার অনেকগুলো আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত)। তিনি ব্রাহ্মণ এবং পণ্ডিতদের নিষ্কর জমি দান করে এলাকায় শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে সাহায্য করেছিলেন।
৫. উত্তরাধিকার
রামেশ্বর রায়ের পরবর্তীকালে তাঁর পুত্র যশোদানন্দন রায় জমিদারির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যশোদানন্দনের সময়েই কাশীজোড়া রাজবংশ মেদিনীপুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী ও প্রভাবশালী পরিবারে পরিণত হয়।
একটি আকর্ষণীয় তথ্য: কাশীজোড়া রাজাদের উত্তরসূরিরাই পরবর্তীকালে মেদিনীপুরের রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন, যার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল রাজা সুন্দরনারায়ণ রায়ের সময়ে সুপ্রিম কোর্টের সাথে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে।
যশোদানন্দন রায়
কাশীজোড়া রাজবংশের ইতিহাসে যশোদানন্দন রায় ছিলেন অত্যন্ত প্রতাপশালী এবং সফল একজন শাসক। তাঁর শাসনামলকে (আনুমানিক ১৭১১ - ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দ) এই জমিদারির 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁর হাত ধরেই কাশীজোড়া মেদিনীপুর জেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও ধনী জমিদারিতে পরিণত হয়েছিল।
যশোদানন্দন রায় সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
১. জমিদারির বিস্তার ও সমৃদ্ধি
রামেশ্বর রায়ের পুত্র যশোদানন্দন তাঁর বুদ্ধি ও বীরত্বের মাধ্যমে কাশীজোড়া পরগনার সীমানা বহুদূর বিস্তৃত করেন। তাঁর সময়ে এই জমিদারির আয়তন ও বার্ষিক রাজস্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। তিনি মোগল সম্রাট ও বাংলার নবাবদের (বিশেষ করে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ ও আলিবর্দী খাঁ) অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন ছিলেন।
২. 'রাজা' উপাধি লাভ
যশোদানন্দন রায়ের প্রশাসনিক দক্ষতা এবং নবাবী দরবারে তাঁর প্রভাবের কারণে তিনি 'রাজা' উপাধি লাভ করেন। এরপর থেকেই এই বংশের শাসকরা আনুষ্ঠানিকভাবে 'রাজা' হিসেবে পরিচিত হতে থাকেন।
৩. মারাঠা আক্রমণ (বর্গি হাঙ্গামা) ও প্রতিরক্ষা
যশোদানন্দনের শাসনকাল ছিল বাংলার ইতিহাসের এক অস্থির সময়, যখন ওড়িশা ও মেদিনীপুর সীমান্তে মারাঠা বর্গিরা নিয়মিত আক্রমণ ও লুণ্ঠন চালাত।
তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে নিজের পরগনা ও প্রজাদের বর্গি হাঙ্গামা থেকে রক্ষা করেছিলেন।
তিনি দুর্ভেদ্য মাটির কেল্লা এবং পরিখা নির্মাণ করে শত্রুদের প্রতিহত করার ব্যবস্থা করেন।
৪. জনহিতকর ও ধর্মীয় কাজ
তিনি শুধুমাত্র একজন যোদ্ধা বা প্রশাসক ছিলেন না, বরং একজন পরম বৈষ্ণব ও বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তি ছিলেন:
মন্দির প্রতিষ্ঠা: কাশীজোড়া অঞ্চলে তাঁর আমলে বেশ কিছু টেরাকোটা মন্দির এবং বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
পুকুর খনন: প্রজাদের পানীয় জলের অভাব দূর করতে তিনি বহু বড় দিঘি খনন করেন, যার কিছু আজও এলাকায় দেখতে পাওয়া যায়।
ব্রাহ্মণ ও পণ্ডিতদের সম্মান: তিনি বহু শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতকে নিষ্কর জমি (ব্রহ্মোত্তর) দান করে এলাকায় শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রচার করেছিলেন।
৫. উত্তরাধিকার
যশোদানন্দন রায়ের পর তাঁর পুত্র রাজা সুন্দরনারায়ণ রায় সিংহাসনে বসেন। সুন্দরনারায়ণ রায়ের সময়েই ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্টের সাথে সেই বিখ্যাত 'কাসিজোড়া মামলা' (Kasijora Case, ১৭৭৯) হয়েছিল, যা ভারতীয় আইন ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, যশোদানন্দন রায় ছিলেন কাশীজোড়া রাজবংশের সেই কারিগর, যিনি এই পরিবারকে মেদিনীপুরের ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন।
রাজা সুন্দরনারায়ণ রায়
কাশীজোড়া রাজবংশের ইতিহাসে রাজা সুন্দরনারায়ণ রায় (Raja Sundarnarayan Ray) ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত এবং ঘটনাবহুল চরিত্রের অধিকারী। তিনি ১৭৪৮ থেকে ১৭৮২ সালের মধ্যবর্তী সময়ে শাসন করেছিলেন। তাঁর শাসনকাল শুধুমাত্র মেদিনীপুরের ইতিহাসের জন্য নয়, বরং ভারতের আইনি ও বিচারবিভাগীয় ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিচে তাঁর জীবনের প্রধান দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
১. উত্তরাধিকার ও ক্ষমতা
রাজা যশোদানন্দন রায়ের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সুন্দরনারায়ণ রায় কাশীজোড়া পরগনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তাঁর সময়েই ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রভাব বাংলায় প্রবল হতে শুরু করে। তিনি একদিকে যেমন প্রজাবৎসল ছিলেন, অন্যদিকে ব্রিটিশদের অন্যায্য কর আদায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
২. ঐতিহাসিক 'কাশীজোড়া মামলা' (The Kasijora Case, ১৭৭৯-৮০)
রাজা সুন্দরনারায়ণ রায়ের নাম ইতিহাসে অমর হয়ে আছে এই বিখ্যাত মামলার কারণে। এটি ছিল কলকাতার তৎকালীন সুপ্রিম কোর্ট এবং ওয়ারেন হেস্টিংসের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কাউন্সিল-এর মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ের এক চরম নিদর্শন।
ঘটনার সূত্রপাত: রাজা সুন্দরনারায়ণ জনৈক কাশীনাথ বাবুর কাছ থেকে বিশাল অংকের টাকা ধার নিয়েছিলেন। টাকা পরিশোধে দেরি হওয়ায় কাশীনাথ বাবু সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন।
সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ: সুপ্রিম কোর্ট রাজার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে এবং সশস্ত্র পুলিশ (পেয়াদা) পাঠিয়ে রাজবাড়িতে তল্লাশি চালায়। এমনকি অভিযোগ আছে, তারা রাজবাড়ির অন্দরমহলে প্রবেশ করে ধর্মীয় পবিত্রতা নষ্ট করেছিল।
হেস্টিংসের বাধা: হেস্টিংস এবং তাঁর কাউন্সিল মনে করতেন যে, মফস্বলের জমিদাররা সুপ্রিম কোর্টের এক্তিভুক্ত নয়। তারা রাজার সুরক্ষায় কোম্পানি সৈন্য পাঠান এবং সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করেন।
ফলাফল: এই সংঘাতের ফলেই ১৭৮১ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট 'Settlement Act of 1781' পাশ করে, যার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করা হয় এবং জমিদারদের ওপর তাদের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব কেড়ে নেওয়া হয়।
৩. ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব ও বিদ্রোহ
সুন্দরনারায়ণ রায় সবসময়ই স্বাধীনচেতা ছিলেন। ১৭৬০-এর দশকে যখন মেদিনীপুর ইংরেজদের অধীনে চলে যায়, তখন তিনি এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জমিদাররা (যেমন ময়নার রাজা) ব্রিটিশদের রাজস্ব দিতে আপত্তি জানিয়েছিলেন। এর ফলে ব্রিটিশরা বেশ কয়েকবার তাঁর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল।
৪. সাংস্কৃতিক ও জনহিতকর কাজ
রাজা সুন্দরনারায়ণ রায় শুধুমাত্র একজন যোদ্ধা বা প্রশাসক ছিলেন না:
তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের মতো বৈষ্ণব ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
কাশীজোড়া অঞ্চলে বেশ কিছু জলশয় খনন এবং মন্দির সংস্কারের কাজে তাঁর অবদান ছিল।
তৎকালীন পণ্ডিত ও কবিদের তিনি আশ্রয় দান করেছিলেন।
৫. রাজবংশের পতন ও পরবর্তীকাল
সুন্দরনারায়ণ রায়ের পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশদের কঠোর রাজস্ব নীতি এবং মামলার বিপুল খরচের কারণে কাশীজোড়া রাজবংশের আর্থিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। তাঁর মৃত্যুর পর রাজা বীরনারায়ণ রায় উত্তরাধিকারী হন, কিন্তু ঋণের দায়ে ধীরে ধীরে এই বিশাল জমিদারি নিলাম হয়ে যায়।
রাজা বীরনারায়ণ রায়
রাজা সুন্দরনারায়ণ রায়ের মৃত্যুর পর রাজা বীরনারায়ণ রায় (Raja Birnarayan Ray) কাশীজোড়া রাজবংশের উত্তরাধিকারী হন। তাঁর শাসনকাল ছিল মূলত ১৮শ শতাব্দীর শেষভাগ (১৭৮২-৮৩ খ্রিষ্টাব্দের পরবর্তী সময়)।
বীরনারায়ণ রায়ের সময়কালটি ছিল এই রাজবংশের জন্য অত্যন্ত সংকটময় এবং পতনের সূচনালগ্ন। তাঁর সম্পর্কে প্রধান ঐতিহাসিক তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. উত্তরাধিকার ও সিংহাসন লাভ
রাজা সুন্দরনারায়ণ রায়ের মৃত্যুর পর বীরনারায়ণ রায় জমিদারি লাভ করেন। ১৭৮৩ সালে ব্রিটিশ রেকর্ডে তাঁকে কাশীজোড়া পরগনার বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তবে তিনি এমন এক সময়ে ক্ষমতা পান যখন 'কাশীজোড়া মামলা'র কারণে রাজবংশের আর্থিক অবস্থা এবং ব্রিটিশদের সাথে সম্পর্ক—উভয়ই তলানিতে ঠেকেছিল।
২. আর্থিক সংকট ও ঋণের বোঝা
বীরনারায়ণ রায়ের শাসনামলে রাজবংশ এক ভয়াবহ আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়:
মামলার খরচ: তাঁর পূর্বসূরি সুন্দরনারায়ণ রায়ের সময়কার দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং সুপ্রিম কোর্টের সাথে বিবাদের কারণে রাজকোষ প্রায় শূন্য হয়ে গিয়েছিল।
রাজস্বের চাপ: ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতি বছর রাজস্বের পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছিল। বীরনারায়ণ রায় সময়মতো সেই বিশাল অংকের রাজস্ব মেটাতে হিমশিম খেতেন।
৩. কোম্পানির সাথে সংঘাত
বীরনারায়ণ রায়ও তাঁর পিতার মতো ব্রিটিশদের কড়া নজরদারিতে ছিলেন। রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হওয়ার কারণে কালেক্টররা বারবার তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। তৎকালীন মেদিনীপুরের ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের রিপোর্টে বীরনারায়ণকে একজন "অসহায় কিন্তু অবাধ্য" জমিদার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
৪. জমিদারির খণ্ডবিখণ্ড হওয়া
বীরনারায়ণ রায়ের আমলেই কাশীজোড়া পরগনার পতন ত্বরান্বিত হয়। ঋণের দায়ে এবং রাজস্ব বাকি পড়ার কারণে জমিদারির বড় বড় অংশ নিলাম হতে শুরু করে।
তাঁর সময়েই পার্শ্ববর্তী মেদিনীপুর ও বর্ধমান রাজবংশের ধনী ব্যক্তিরা এবং কলকাতার উদীয়মান ব্যবসায়ীরা কাশীজোড়ার অনেকগুলো তালুক কিনে নেন।
৫. পরবর্তী উত্তরাধিকার
বীরনারায়ণ রায়ের পর তাঁর পুত্র রাজা রূপনারায়ণ রায় নামমাত্র জমিদার হিসেবে অভিষিক্ত হন। কিন্তু ততদিনে কাশীজোড়া রাজবংশের সেই পুরনো প্রতিপত্তি আর ছিল না। শেষ পর্যন্ত উনিশ শতকের শুরুতে 'সূর্যাস্ত আইন' (Sunset Law) এবং পারিবারিক ঋণের চাপে এই বিশাল পরগনাটি সম্পূর্ণভাবে নিলাম হয়ে যায়।
বর্তমান স্মৃতি
বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল এবং পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া সীমানায় রাজা বীরনারায়ণ রায়ের আমলের কিছু প্রাচীন মন্দির ও দিঘির চিহ্ন পাওয়া যায়। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেই রাজকীয় স্থাপত্যগুলো আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
রাজা রূপনারায়ণ রায়
কাশীজোড়া রাজবংশের ইতিহাসে রাজা রূপনারায়ণ রায় (Raja Rupnarayan Ray) ছিলেন এই বংশের শেষদিকের একজন উল্লেখযোগ্য শাসক। তিনি রাজা বীরনারায়ণ রায়ের পরবর্তী উত্তরাধিকারী ছিলেন। তাঁর সময়কালটি ছিল এই প্রাচীন রাজবংশের জন্য চরম সংকট ও পতনের চূড়ান্ত অধ্যায়।
তাঁর সম্পর্কে ঐতিহাসিক প্রধান তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. উত্তরাধিকার ও শাসনকাল
১৮শ শতাব্দীর একেবারে শেষভাগ এবং ১৯শ শতাব্দীর শুরুতে (আনুমানিক ১৭৯০-এর দশক থেকে ১৮১০-এর দশক) রাজা রূপনারায়ণ রায় কাশীজোড়া পরগনার নামমাত্র অধিপতি ছিলেন। তাঁর সময়ে রাজবংশের রাজনৈতিক ক্ষমতা বলতে আর প্রায় কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।
২. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও চরম সংকট
১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (Permanent Settlement) প্রবর্তন করেন। রাজা রূপনারায়ণ রায়ের জন্য এটি ছিল এক মরণফাঁদ:
রাজস্বের বোঝা: ব্রিটিশরা কাশীজোড়া পরগনার ওপর যে পরিমাণ বার্ষিক রাজস্ব ধার্য করেছিল, তা আদায় করা রাজার পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
সূর্যাস্ত আইন (Sunset Law): নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের আগে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা দিতে না পারায় তাঁর জমিদারির বড় বড় অংশ বা 'তালুক' একে একে নিলাম হতে শুরু করে।
৩. জমিদারির পতন ও নিলাম
রাজা রূপনারায়ণ রায়ের আমলেই কাশীজোড়া পরগনাটি চূড়ান্তভাবে খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায়।
তাঁর রাজত্বের বিশাল অংশ বর্ধমানের মহারাজা এবং কলকাতার ধনী ব্যবসায়ীরা নিলামে কিনে নেন।
কথিত আছে, ঋণের দায়ে এবং ব্রিটিশদের কড়া নজরদারিতে রাজা রূপনারায়ণ প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন।
৪. ধর্মীয় ও জনহিতকর কাজ
আর্থিক সংকট সত্ত্বেও তিনি তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন:
তিনি বৈষ্ণব ধর্মের একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন।
বর্তমান পাঁশকুড়া এবং ঘাটাল সংলগ্ন এলাকায় তাঁর আমলে প্রতিষ্ঠিত কিছু প্রাচীন দেবালয় এবং বিগ্রহের উল্লেখ পাওয়া যায়।
স্থানীয় লোকশ্রুতি অনুযায়ী, তিনি অত্যন্ত বিনয়ী এবং প্রজাবৎসল ছিলেন, কিন্তু ব্রিটিশ আইনের মারপ্যাঁচে নিজের সম্পত্তি রক্ষা করতে পারেননি।
৫. রাজবংশের শেষ অধ্যায়
রূপনারায়ণ রায়ের পর কাশীজোড়া রাজবংশ কার্যত সাধারণ জমিদারে পরিণত হয়। তাঁর পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে কেউ কেউ ছোট ছোট তালুক নিয়ে টিকে ছিলেন, কিন্তু 'রাজা' পদবিটি কেবল নামেই সীমাবদ্ধ ছিল। বিশ শতকের জমিদারি উচ্ছেদ আইনের পর এই বংশের রাজকীয় অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়।
বর্তমান স্মৃতি
বর্তমানে মেদিনীপুরের কাশীজোড়া গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় রাজবাড়ির কিছু ভগ্নাবশেষ এবং ঠাকুরবাড়ি আজও রাজা রূপনারায়ণ রায়ের স্মৃতি বহন করছে। বিশেষ করে কংসাবতী নদীর পাড়ে তাঁর আমলের কিছু প্রাচীন স্থাপত্য ও পরিখা ইতিহাসের সাক্ষ্য দেয়।
রানি জানকী দেবী
মেদিনীপুরের ইতিহাসে রানি জানকী দেবী (Rani Janaki Devi) ছিলেন অত্যন্ত মহীয়সী এবং দৃঢ়চেতা একজন নারী। কাশীজোড়া রাজবংশের ইতিহাসে তিনি সম্ভবত শেষ শক্তিশালী স্তম্ভ ছিলেন, যিনি অত্যন্ত প্রতিকূল সময়ে এই বিশাল জমিদারির হাল ধরেছিলেন।
তিনি ছিলেন রাজা বীরনারায়ণ রায়ের পত্নী এবং রাজা রূপনারায়ণ রায়ের মাতা। তাঁর সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. জমিদারির হাল ধরা (১৭৯০-এর দশক)
রাজা বীরনারায়ণ রায়ের মৃত্যুর পর যখন উত্তরাধিকার নিয়ে সংকট দেখা দেয় এবং রাজবংশ ঋণের জালে জর্জরিত ছিল, তখন জানকী দেবী পর্দার আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে জমিদারির প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ব্রিটিশ নথিপত্রে তাঁকে 'কাশীজোড়া পরগনার রানি' হিসেবে অত্যন্ত সম্মানের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে।
২. ব্রিটিশদের সাথে লড়াই ও মামলা
রানি জানকী দেবী ছিলেন অত্যন্ত তেজস্বী। তিনি তাঁর শ্বশুর রাজা সুন্দরনারায়ণ রায়ের মতো ব্রিটিশদের অন্যায্য রাজস্ব নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
রাজস্ব নিয়ে বিরোধ: ব্রিটিশ কালেক্টররা যখন ঋণের দায়ে জমিদারি নিলাম করতে চায়, তখন তিনি দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়েছিলেন।
সাহসিকতা: তৎকালীন পুরুষতান্ত্রিক সমাজে একজন নারী হয়েও তিনি ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি পত্রবিনিময় করতেন এবং নিজের অধিকারের দাবি জানাতেন।
৩. জনহিতকর কাজ ও দানশীলতা
রানি জানকী দেবী তাঁর ধর্মপ্রাণতা এবং দানশীলতার জন্য মেদিনীপুর ও ওড়িশা অঞ্চলে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন:
পুরী ধাম ও রথযাত্রা: কথিত আছে, জগন্নাথ দেবের প্রতি তাঁর অগাধ ভক্তি ছিল। তিনি পুরীর মন্দিরে এবং রথযাত্রার সেবার জন্য বিশাল অংকের ভূসম্পত্তি দান করেছিলেন।
জলাশয় ও মন্দির: কাশীজোড়া অঞ্চলে প্রজাদের পানীয় জলের অভাব দূর করতে তিনি বেশ কিছু বড় দিঘি খনন করান। মেদিনীপুরের বেশ কিছু প্রাচীন বিষ্ণু মন্দির তাঁর প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় সংস্কার করা হয়েছিল।
৪. জমিদারির পতন ও শেষ জীবন
এত চেষ্টা সত্ত্বেও লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (১৭৯৩) এবং 'সূর্যাস্ত আইন'-এর কঠোর কবলে পড়ে কাশীজোড়া পরগনা তাঁর হাতছাড়া হতে শুরু করে। বিশাল রাজস্বের বোঝা মেটাতে না পারায় তাঁর জমিদারির বড় অংশ মেদিনীপুরের নাড়াজোল রাজ এবং বর্ধমান রাজ পরিবারের কাছে নিলাম হয়ে যায়।
৫. ঐতিহাসিক তাৎপর্য
রানি জানকী দেবীর সময়কালটি ছিল একটি যুগের অবসান। তিনি মেদিনীপুরের সেইসব বীরাঙ্গনা নারী জমিদারদের একজন (যেমন নাড়াজোলের রানি শিরোমণি), যারা ব্রিটিশ শক্তির সামনে মাথা নত করতে চাননি। তাঁর মাধ্যমেই কাশীজোড়া রাজবংশের সেই পুরনো গরিমা শেষবারের মতো জ্বলে উঠেছিল।
বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের সংযোগস্থলে কাশীজোড়া অঞ্চলে রানি জানকী দেবীর নামাঙ্কিত কিছু প্রাচীন পুকুর এবং পারিবারিক দেবোত্তর সম্পত্তি আজও টিকে আছে। স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি আজও একজন 'দানশীলা রানি' হিসেবে পরিচিত।

0 Reviews