Read more
মুনুপুর' থেকে 'ইটওয়া' নামকরণ
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার এই নামকরণ এবং পন্ডিত নিধিপতির সাথে এর সম্পৃক্ততার ইতিহাস বেশ প্রাচীন এবং কৌতূহলদ্দীপক। আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে এর বিস্তারিত ইতিহাস নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নিধিপতির আগমন
প্রায় সাড়ে আটশো বছর আগের কথা। তখন এই অঞ্চলটি ছিল ত্রিপুরা রাজ্যের অধীন। ত্রিপুরার তৎকালীন মহারাজা একটি বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের (যজ্ঞ) আয়োজন করেছিলেন। এই অনুষ্ঠানটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি ভারতের কনৌজের ইটওয়া নামক স্থান থেকে অত্যন্ত জ্ঞানী এক পণ্ডিতকে নিয়ে আসেন, যার নাম ছিল নিধিপতি।
২. উপহার হিসেবে 'মুনুপুর' লাভ
পণ্ডিত নিধিপতি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মহারাজার ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করেন। এতে রাজা অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন এবং তাকে পারিশ্রমিক বা সম্মাননা হিসেবে একটি ভূখণ্ড উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তৎকালীন সময়ে মনু নদীর তীরে অবস্থিত এই ভূখণ্ডটির নাম ছিল মুনুপুর (অনেকে এটিকে 'মনুপুর' হিসেবেও উল্লেখ করেন)।
৩. 'মুনুপুর' থেকে 'ইটওয়া' নামকরণ
নিধিপতি এই নতুন অঞ্চলে বসতি স্থাপন করলেও তার জন্মস্থানের প্রতি গভীর টান ছিল। তিনি তার আদি নিবাস ভারতের ইটওয়া (Etah/Etawah)-কে চিরস্মরণীয় করে রাখতে চাইলেন। তাই তিনি উপহার পাওয়া ভূখণ্ড 'মুনুপুর'-এর নাম পরিবর্তন করে নিজের জন্মস্থানের নামানুসারে ইটওয়া রাখেন। এভাবেই এই অঞ্চলটি দীর্ঘ কয়েকশ বছর 'ইটওয়া' নামে পরিচিত ছিল।
৪. ভানু নারায়ণ ও 'রাজনগর' হয়ে ওঠা
নিধিপতির উত্তরসূরিদের মধ্যে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন ভানু নারায়ণ। প্রায় পাঁচশ বছর পর একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়:
ত্রিপুরা মহারাজার বিরুদ্ধে একজন শক্তিশালী বিদ্রোহী মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
ভানু নারায়ণ নিজের বুদ্ধি ও বীরত্ব দিয়ে সেই বিদ্রোহীকে দমন করেন এবং তাকে পরাজিত অবস্থায় রাজার কাছে প্রেরণ করেন।
মহারাজা খুশি হয়ে ভানু নারায়ণকে 'রাজা' উপাধিতে ভূষিত করেন।
ভানু নারায়ণ এই রাজকীয় সম্মান পাওয়ার পর তার অঞ্চলের নামের সাথে 'রাজা' পদবিটি যুক্ত করতে চাইলেন। তিনি 'ইটওয়া' নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দেন রাজনগর।
বর্তমানে রাজনগরের গুরুত্ব:
বর্তমানে মৌলভীবাজারের এই রাজনগর উপজেলা তার সমৃদ্ধ ইতিহাসের জন্য পরিচিত। এখানে এখনও সেই সময়ের অনেক প্রাচীন স্থাপনা, দিঘি এবং মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। ভিডিওতে আপনারা যে প্রাচীন তোরণ বা দালানগুলো দেখেছেন, তা এই দীর্ঘ ইতিহাসেরই সাক্ষী।

0 Reviews