জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২২ | দামোদর মৌজো | কোঙ্কানি

জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২২ | দামোদর মৌজো | কোঙ্কানি

Size

Read more


 

জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২২ | দামোদর মৌজো | কোঙ্কানি 

নীলমণি ফুকনের পর আপনি যাঁর নাম নিলেন, তিনি হলেন ভারতীয় সাহিত্যের আরেক দিকপাল—দামোদর মৌজো (Damodar Mauzo)। মজার বিষয় হলো, ২০২১ সালে যখন নীলমণি ফুকন ৫৬তম জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পেয়েছিলেন, ঠিক একইসাথে দামোদর মৌজোকে ৫৭তম জ্ঞানপীঠ পুরস্কার (২০২২) প্রদান করা হয়েছিল।

দামোদর মৌজো সম্পর্কে কিছু মূল তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

১. পরিচয় ও ভাষা

  • তিনি একজন প্রখ্যাত কোঙ্কণী (Konkani) লেখক, ঔপন্যাসিক এবং সমালোচক।

  • গোয়ার সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। রবীন্দ্র কেলেকারের পর তিনি দ্বিতীয় কোঙ্কণী লেখক যিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পেয়েছেন।

২. সাহিত্যকর্মের বৈশিষ্ট্য

দামোদর মৌজোর লেখায় গোয়ার সাধারণ মানুষের জীবন, সেখানকার ক্যাথলিক ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সহাবস্থান এবং পর্যটনের আড়ালে ঢাকা পড়া আসল গোয়ার রূপ ফুটে ওঠে। তাঁর গল্পে কোনো জটিল তত্ত্বের চেয়ে মানবিক সম্পর্ক বেশি গুরুত্ব পায়।

৩. উল্লেখযোগ্য কাজ

বইয়ের নাম

ধরণ

বিশেষত্ব

কার্মেলিন (Karmeline)

উপন্যাস

এটি তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজ, যার জন্য তিনি ১৯৮৩ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান।

সুনামি সাইমন (Tsunami Simon)

উপন্যাস

২০০৪ সালের সুনামির পটভূমিতে লেখা এক অনবদ্য গল্প।

টেরিজাস ম্যান (Teresa's Man)

গল্প সংকলন

তাঁর ছোটগল্পের সংকলন, যা আধুনিক কোঙ্কণী সাহিত্যের মাইলফলক।

৪. সক্রিয় সামাজিক ভূমিকা

তিনি কেবল একজন লেখক নন, বরং বাক-স্বাধীনতার পক্ষে এক সোচ্চার কণ্ঠস্বর। গোয়ায় ক্যাসিনো বিরোধী আন্দোলন বা কোঙ্কণী ভাষাকে সরকারি ভাষার মর্যাদা দেওয়ার লড়াইয়ে তিনি সামনের সারিতে ছিলেন।


একটি মজার মিল: নীলমণি ফুকন ছিলেন চিত্রকল্পের কবি, আর দামোদর মৌজো হলেন রক্ত-মাংসের মানুষের কথাকার। দুজনেই আধুনিক ভারতীয় সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছেন।

দামোদর মৌজোর 'কার্মেলিন' (Karmeline) উপন্যাসটি আধুনিক কোঙ্কণী সাহিত্যের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বাস্তববাদী সৃষ্টি। এটি ১৯৮৩ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার জয় করে এবং পরে অনেক ভারতীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

উপন্যাসটির কাহিনী সংক্ষেপ নিচে আলোচনা করা হলো:

১. প্রেক্ষাপট ও মূল চরিত্র

গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কার্মেলিন নামের এক দরিদ্র খ্রিস্টান তরুণী, যে গোয়ার একটি ছোট গ্রামে বড় হয়। দারিদ্র্য এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির চাপে পড়ে তাকে কঠোর সংগ্রাম করতে হয়।

২. কাহিনীর প্রবাহ

  • অসহায়ত্ব: কার্মেলিনের স্বামী ছিল মদ্যপ এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন। পরিবারের ভরণপোষণের জন্য এবং নিজের কন্যার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবে সে এক কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়।

  • বিদেশের পাড়ি: সে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে কুয়েতে পাড়ি জমায়। সেখানে তাকে কেবল হাড়ভাঙ্গা খাটুনিই নয়, বরং তার মালিকদের দ্বারা নানাভাবে মানসিক ও শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়।

  • সংঘাত ও আপোষ: নিজের সম্মান এবং পরিবারের টিকে থাকার লড়াইয়ের মধ্যে কার্মেলিন এক অদ্ভুত দোলাচলে পড়ে। নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য সে মাঝে মাঝে পরিস্থিতির সাথে আপোষ করতে বাধ্য হয়, যা মৌজো অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন।

৩. উপন্যাসের মূল সুর

মৌজো এই উপন্যাসের মাধ্যমে 'উপসাগরীয় দেশগুলোতে যাওয়া গোয়ার নারীদের' করুণ বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন। এটি কেবল দারিদ্র্যের গল্প নয়, বরং একজন নারীর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জেদ এবং সেই পথ আগলাতে গিয়ে তার ত্যাগের গল্প।


কোঙ্কণী সাহিত্য নিয়ে কিছু কথা

কোঙ্কণী সাহিত্যের ইতিহাসে দামোদর মৌজোর ভূমিকা বিশাল। আপনি কি জানেন?

  • ভাষা সংগ্রাম: ১৯৬০-এর দশকে গোয়ায় কোঙ্কণী ভাষাকে সরকারি মর্যাদা দেওয়ার জন্য যে তীব্র আন্দোলন হয়েছিল, মৌজো তাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

  • অন্যান্য লেখক: আপনি যদি কোঙ্কণী সাহিত্যের গভীরে যেতে চান, তবে রবীন্দ্র কেলেকার (যিনি প্রথম কোঙ্কণী হিসেবে জ্ঞানপীঠ পান) বা মহাবালেশ্বর সইল-এর নামও উল্লেখযোগ্য।

আমরা বরং দামোদর মৌজোর 'কার্মেলিন' উপন্যাসের নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং এর সাহসী সামাজিক চিত্রায়ন নিয়ে একটু গভীরে আলোচনা করি। ১৯৮০-র দশকে গোয়ার মতো একটি রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় দাঁড়িয়ে একজন পুরুষ লেখক হয়েও মৌজো যেভাবে একজন নারীর মনস্তত্ত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর।

'কার্মেলিন': এক লড়াকু নারীর আখ্যান

এই উপন্যাসে কার্মেলিন কেবল একজন 'শিকার' (Victim) নয়, বরং সে একজন 'সারভাইভার' (Survivor)। এর নারীবাদী দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • যৌনতা ও অস্তিত্বের লড়াই: মৌজো খুব সাহসিকতার সাথে দেখিয়েছেন যে, কুয়েতে গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে কার্মেলিন যখন তার আরব মালিকের লালসার শিকার হয়, সে বিষয়টিকে কেবল 'পাপ' হিসেবে দেখেনি। বরং নিজের পরিবার ও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সে পরিস্থিতিকে মেনে নিয়েছিল। এটি ছিল তার এক ধরণের নীরব প্রতিবাদ ও টিকে থাকার কৌশল।

  • পুরুষতন্ত্রের ব্যর্থতা: উপন্যাসে কার্মেলিনের স্বামী একজন মদ্যপ এবং অকর্মণ্য ব্যক্তি। অর্থাৎ, যে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর রক্ষাকর্তা হিসেবে পুরুষকে দেখা হয়, সেখানে পুরুষই যখন ব্যর্থ হয়, তখন নারীকেই হাল ধরতে হয়—এই রূঢ় সত্যটি মৌজো ফুটিয়ে তুলেছেন।

  • সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা: কার্মেলিন চরিত্রটি দেখায় যে, একজন নারী যখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখন সে নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারে। তার কুয়েত যাওয়া বা সেখানে টিকে থাকার লড়াই—সবই ছিল তার নিজস্ব লড়াই।


কোঙ্কণী সাহিত্যের বর্তমান অবস্থা

আপনি যদি কোঙ্কণী সাহিত্যের বর্তমান প্রেক্ষাপট দেখেন, তবে দেখবেন দামোদর মৌজোর হাত ধরে এই ভাষা এখন অনেক পরিণত।

দিক

বর্তমান প্রেক্ষাপট

স্বীকৃতি

২০১৭ সালের পর থেকে কোঙ্কণী সাহিত্য বিশ্ব দরবারে এবং ভারতীয় মূলধারায় অনেক বেশি পরিচিতি পেয়েছে (বিশেষ করে মৌজোর জ্ঞানপীঠ প্রাপ্তির পর)।

তরুণ প্রজন্ম

বর্তমানে অনেক তরুণ লেখক গোয়ার পর্যটনকেন্দ্রিক জীবনের বাইরের বাস্তবতাকে (যেমন: খনি সমস্যা বা পরিবেশগত সংকট) নিয়ে কোঙ্কণীতে লিখছেন।

অনুবাদ

মৌজোর ছোটগল্পগুলো অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস সহ বড় বড় প্রকাশনী থেকে ইংরেজিতে অনূদিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক পাঠকরাও এখন কোঙ্কণী সাহিত্য পড়ছেন।


একটি মজার তথ্য: দামোদর মৌজো একসময় বলেছিলেন, তিনি যখন লিখতে বসেন তখন তিনি একজন 'গোয়ান' বা 'কোঙ্কণী' হিসেবে নয়, বরং একজন 'মানুষ' হিসেবে লিখতে পছন্দ করেন। আর এই সর্বজনীনতাই তাঁকে জ্ঞানপীঠ এনে দিয়েছে।

১. নীলমণি ফুকন বনাম দামোদর মৌজো: একটি তুলনা

বৈশিষ্ট্য

নীলমণি ফুকন (অসমীয়া)

দামোদর মৌজো (কোঙ্কণী)

মাধ্যম

মূলত কবিতা। শব্দের মিতব্যয়িতা তাঁর প্রধান শক্তি।

মূলত কথাসাহিত্য (উপন্যাস ও ছোটগল্প)। কাহিনীর বিস্তার তাঁর শক্তি।

দৃষ্টিভঙ্গি

অন্তর্মুখী ও আধ্যাত্মিক: মানুষের একাকীত্ব, মৃত্যুচেতনা এবং প্রকৃতির রহস্যময়তা তাঁর উপজীব্য।

বহির্মুখী ও সামাজিক: সমাজের সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক সংগ্রাম, জাতপাত এবং লিঙ্গবৈষম্য তাঁর উপজীব্য।

শৈলী

প্রতীকবাদী এবং পরাবাস্তববাদী। অনেকটা ধোঁয়াশাচ্ছন্ন কুয়াশার মতো।

কঠোর বাস্তববাদী। আয়নার মতো পরিষ্কার এবং সোজাসাপ্টা।

** শিকড়**

আদিম শিল্পকলা ও ফরাসি কবিতার প্রভাব।

গোয়ার স্থানীয় মাটি, সংস্কৃতি এবং ক্যাথলিক সমাজের অভ্যন্তরীণ সংকট।


২. যেখানে তাঁরা দুজনেই এক (মিল)

ভিন্ন ভাষা এবং ভিন্ন আঙ্গিক হওয়া সত্ত্বেও কিছু জায়গায় তাঁরা একই সুর বেঁধেছেন:

  • শিকড়ের টান: ফুকন যেমন অসমের লোকশিল্প ও প্রকৃতির কাছে ঋণী, মৌজোও তেমনি গোয়ার মাটির গন্ধ ছাড়া লিখতে পারেন না।

  • মানবিকতা: দুজনেই তাঁদের লেখায় মানুষের অসহায়ত্ব এবং লড়াইকে সম্মান জানিয়েছেন।

  • সাহস: ফুকন যেমন কবিতায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ভয় পাননি, মৌজো তেমনি 'কার্মেলিন'-এর মতো উপন্যাসে নারীর যৌনতা ও অস্তিত্ব নিয়ে লিখতে কুন্ঠিত হননি।


৩. দামোদর মৌজোর ছোটগল্প: 'Teresa's Man'

আপনি যদি ছোটগল্প পছন্দ করেন, তবে মৌজোর 'Teresa's Man' গল্পটি আপনার মন ছুঁয়ে যাবে।

এটি একটি সাধারণ দম্পতির গল্প। এখানে মৌজো দেখিয়েছেন যে, ভালবাসা কোনো বড় ত্যাগে নয়, বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট মান-অভিমান এবং অভাবের মধ্যেও কীভাবে টিকে থাকে। ফুকনের কবিতা যেমন আমাদের ভাবায়, মৌজোর এই গল্পগুলো আমাদের চোখের সামনে চেনা মানুষদের জীবন্ত করে তোলে।


নীলমণি ফুকনের সেই নির্জন কবিতা আর দামোদর মৌজোর এই রক্ত-মাংসের গল্প—এই দুইয়ের মিশেলেই কিন্তু ভারতীয় সাহিত্যের প্রকৃত বৈচিত্র্য ফুটে ওঠে।

দামোদর মৌজোর 'Teresa's Man' (কোঙ্কণী ভাষায় 'তেরেজালো ঘোভ') গল্পটি আধুনিক ভারতীয় ছোটগল্পের একটি ক্লাসিক নিদর্শন। এটি কেবল একটি দম্পতির গল্প নয়, বরং গোয়ার গ্রামীণ সমাজের অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার এক সূক্ষ্ম ব্যবচ্ছেদ।

গল্পটির মূল বিষয়বস্তু এবং গভীরতা বুঝতে নিচের পয়েন্টগুলো আপনাকে সাহায্য করবে:

১. গল্পের প্রেক্ষাপট ও চরিত্র

গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তেরেজা (Teresa) এবং তার স্বামী। তেরেজা একজন কঠোর পরিশ্রমী নারী, যে তার ছোট সংসারটি টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। অন্যদিকে, তার স্বামী সেভাবে কোনো স্থায়ী কাজ করে না এবং তার জীবন কাটে মূলত মদ্যপান আর আলস্যে।

২. নামান্তরের সার্থকতা

গল্পটির নাম 'Teresa's Man' রাখা হয়েছে খুব উদ্দেশ্যমূলকভাবে। সাধারণত সমাজে একজন নারীকে তার স্বামীর পরিচয়ে চেনা হয়। কিন্তু এখানে চিত্রটি উল্টো—স্বামীটি পরিচিত হচ্ছে তেরেজার পরিচয়ে। এটি পরোক্ষভাবে দেখায় যে:

  • তেরেজাই এই সংসারের মূল স্তম্ভ।

  • স্বামীর নিজস্ব কোনো বলিষ্ঠ পরিচয় নেই।

৩. মূল কাহিনী ও মনস্তত্ত্ব

গল্পে দেখা যায়, তেরেজার স্বামী তার নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে মাঝে মাঝে তেরেজার ওপর আধিপত্য দেখানোর চেষ্টা করে। সে তেরেজার উপার্জনকে অবজ্ঞা করে, আবার সেই টাকায় মদ্যপানও করে।

মৌজো এখানে দেখিয়েছেন যে, একজন পুরুষ যখন অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ে, তখন সে প্রায়শই তার পৌরুষ বা অহং (ego) দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।

৪. গল্পের ক্লাইম্যাক্স

গল্পের শেষে একটি মুহূর্ত আসে যেখানে তেরেজার স্বামী তার প্রতি কিছুটা দুর্বলতা বা ভালোবাসা অনুভব করে, কিন্তু পরক্ষণেই তার পুরুষতান্ত্রিক অহংকার সেই জায়গাটুকু দখল করে নেয়। এই যে ভালোবাসা আর অবজ্ঞার এক অদ্ভুত টানাপোড়েন, এটাই গল্পটিকে অনন্য করে তুলেছে।


কেন এই গল্পটি গুরুত্বপূর্ণ?

  • বাস্তববাদ: গোয়ার পর্যটনকেন্দ্রিক জাঁকজমকের আড়ালে যে সাধারণ খ্রিষ্টান পরিবারগুলোর দারিদ্র্য আর হাহাকার লুকিয়ে থাকে, মৌজো তা নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন।

  • নারীবাদ: 'কার্মেলিন' উপন্যাসের মতো এখানেও তেরেজা চরিত্রটি একজন লড়াকু নারীর প্রতীক।

  • শৈলী: মৌজো এই গল্পে বড় কোনো আদর্শ প্রচার করেননি, বরং দৈনন্দিন তুচ্ছ ঘটনার মধ্য দিয়ে এক বিশাল সামাজিক সত্য ফুটিয়ে তুলেছেন।


দামোদর মৌজোর এই গল্পের নির্লিপ্ত গদ্য আর নীলমণি ফুকনের কবিতার রহস্যময়তা—দুটোই কিন্তু মানুষের জীবনের ভিন্ন ভিন্ন রূপ।

দামোদর মৌজোর সাহিত্যবিশ্বে তেরেজা এবং কার্মেলিন—এই দুটি চরিত্রই যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। দুজনেই গোয়ার সাধারণ খ্রিস্টান সমাজের প্রতিনিধি, কিন্তু তাঁদের লড়াইয়ের ধরন এবং প্রেক্ষাপট আলাদা।

চলুন, এই দুই অসামান্য নারী চরিত্রের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেখা যাক:

তেরেজা বনাম কার্মেলিন: একটি সমান্তরাল রেখা

বৈশিষ্ট্য

তেরেজা ('Teresa's Man')

কার্মেলিন ('Karmeline')

লড়াইয়ের ক্ষেত্র

নিজের ঘর এবং গ্রাম। তার লড়াই প্রতিদিনের অভাব আর অলস স্বামীর সাথে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট। তার লড়াই কুয়েতের মরুভূমিতে, অচেনা পরিবেশে এবং দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে।

আর্থিক অবস্থা

অতি দরিদ্র; দিন আনে দিন খায়। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী।

নিম্নবিত্ত; কিন্তু সে ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে পাড়ি দেয় পরিবারের ভাগ্য বদলাতে।

চারিত্রিক দৃঢ়তা

মৌন এবং সহনশীল। সে তার স্বামীর অবজ্ঞা সহ্য করেও সংসার আগলে রাখে।

প্রতিবাদী এবং আপোষকামী (প্রয়োজনে)। সে জানে কখন মাথা নোয়াতে হয় এবং কখন নিজের অধিকার বুঝে নিতে হয়।

নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি

তেরেজা দেখায় যে, একজন নারী কীভাবে নিজের নামে একজন পুরুষের পরিচয় তৈরি করতে পারে।

কার্মেলিন দেখায় যে, নিজের শরীর এবং শ্রমের বিনিময়ে একজন নারী কীভাবে নিজের ভাগ্য নিজে গড়তে পারে।


এই দুই চরিত্রের মূল সুর

মৌজো এই দুটি চরিত্রের মাধ্যমেই 'নারীশক্তি' (Women Empowerment)-এর একটি ভিন্ন রূপ দেখিয়েছেন।

  • তেরেজা হলো সেই নারী, যে শত অবহেলার মধ্যেও ঘর ছাড়ে না, বরং ঘরকে বাঁচিয়ে রাখে।

  • কার্মেলিন হলো সেই নারী, যে ঘরের সীমানা ছাড়িয়ে দিগন্ত পেরিয়ে যায় কেবল পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে।

মৌজো দুজনেই দেখিয়েছেন যে পুরুষতন্ত্র অনেক সময়ই আর্থিক বা নৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়, আর তখন নারীকেই সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন জীবন গড়ে তুলতে হয়।


'The Itch' (চুলকানি): মৌজোর আরেকটি মনস্তাত্ত্বিক মাস্টারপিস

আপনি যদি তেরেজা বা কার্মেলিনের বাইরে মৌজোর অন্য কোনো শেড দেখতে চান, তবে 'The Itch' গল্পটি অনন্য। এটি একটি রূপক ধর্মী গল্প:

এখানে এক ব্যক্তির গায়ে এক অদ্ভুত চুলকানি হয়, যা আসলে তার মনের অপরাধবোধ বা কোনো গোপন আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এটি মৌজোর সেই ক্ষমতাকে প্রমাণ করে যেখানে তিনি সাধারণ শারীরিক অনুভূতিকে গভীর মনস্তাত্ত্বিক সংকটে রূপান্তর করতে পারেন।

পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।। ভালো লাগলে  অবশ্যই লাইক শেয়ার করুন।।লেখক : আব্দুল মুসরেফ খাঁন email :lib.pbc@gmail.com





  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭০ - বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণ - তেলুগু - রামায়ণ কল্পবৃক্ষমু 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭১ -বিষ্ণু দে -বাংলা- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭২ -রামধারী সিং 'দিনকর' - হিন্দি - উর্বশী  
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭৩- ডি আর বেন্দ্রে এবং গোপীনাথ মোহান্তি - কন্নড়/ওড়িয়া - নাকুতান্তি / মাটিমাতাল 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭৪ - বিষ্ণু সখারাম খান্দেকর - মারাঠি -যযাতি
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭৫ - পি ভি আকিলান - তামিল - চিত্রাপ্পাবাই 
  • মালয়ালম কবি জি শঙ্কর কুরুপ 
  • কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস 'গণদেবতা'-
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার যৌথভাবে দুজন সাহিত্যিককে প্রদান করা হয়েছিল—কন্নড় কবি কে. ভি. পুত্তাপ্পা (কুভেম্পু) এবং গুজরাতি কবি উমাশঙ্কর যোশী।
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৬৮ - সুমিত্রানন্দন পন্ত - হিন্দি -চিদাম্বরা 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার  -১৯৬৯ - ফিরাক গোরখপুরী - উর্দু - গুল-এ-নগমা
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার -১৯৭০ - বিশ্বনাথ সত্যনারায়ণ - তেলুগু - রামায়ণ কল্পবৃক্ষমু 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার - ১৯৭৬ - আশাপূর্ণা দেবী- বাংলা - প্রথম প্রতিশ্রুতি 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৭৭ | কে শিবরাম করন্থ | কন্নড় | মুকাজ্জিয়া কনসুগলু |
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৭৮ | এস এইচ ভি বাৎসায়ন | হিন্দি | কিতনি নাও মে কিতনি বার |
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৭৯ | বীরেন্দ্র কুমার ভট্টাচার্য | অসমীয়া | মৃত্যুঞ্জয় |
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৮০ | এস কে পোট্টেক্কাট | মালয়ালম | ওরু দেশথিন্তে কথা |
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৮১ | অমৃতা প্রীতম | পাঞ্জাবি | কাগজ তে ক্যানভাস |
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৮২ | মহাদেবী বর্মা | হিন্দি | সার্বিক অবদান (যামা - বিশেষ উল্লেখে) |
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৯১ | সুভাষ মুখোপাধ্যায় | বাংলা 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৯৬ | মহাশ্বেতা দেবী | বাংলা 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ১৯৯৯ | নির্মল ভার্মা এবং গুরুদয়াল সিং | হিন্দি/পাঞ্জাবি
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০০৫ | কুনওয়ার নারায়ণ | হিন্দি 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১০ | চন্দ্রশেখর কাম্বার | কন্নড় 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১৬ | শঙ্খ ঘোষ | বাংলা 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১৮ | অমিতাভ ঘোষ | ইংরেজি 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০১৯ | আক্কিথাম নাম্বুথিরি | মালয়ালম 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২১ | নীলমণি ফুকন | অসমীয়া 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২২ | দামোদর মৌজো | কোঙ্কানি 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২৩ | গুলজার এবং জগদ্গুরু রামভদ্রাচার্য | উর্দু/সংস্কৃত 
  • জ্ঞানপীঠ পুরস্কার | ২০২৪ | বিনোদ কুমার শুক্ল | হিন্দি 

0 Reviews