মাতপুর মনসা মন্দির

মাতপুর মনসা মন্দির

Size

Read more

 




পশ্চিম মেদিনীপুরের বিখ্যাত মাতপুর মনসা মন্দির

মন্দিরের বিশেষত্বগুলো নিচে দেওয়া হলো:

মন্দিরের ইতিহাস অলৌকিকত্ব

ছাদবিহীন মন্দির: এই মন্দিরের সবচেয়ে বড় রহস্য হলো এর কোনো ছাদ নেই স্থানীয়দের বিশ্বাস এবং ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী, যতবারই মন্দিরটিতে ছাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, ততবারই তা কোনো না কোনোভাবে ভেঙে পড়েছে মনে করা হয়, দেবী মনসা খোলা আকাশের নিচে থাকতেই পছন্দ করেন

৪০০ বছরের পুরনো: প্রায় ৪০০ বছর আগে মাতপুরের জমিদার যোগেশ্বর রায় স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন

পুরোহিতবিহীন পূজা: এই মন্দিরে কোনো নির্দিষ্ট পুরোহিত নেই ভক্তরা নিজেরাই নিজেদের হাতে মায়ের পূজা দিতে পারেন

অবস্থান

মন্দিরটি পশ্চিম মেদিনীপুরের জকপুর মাতপুরের মাঝামাঝি মহিষা গ্রামে অবস্থিত

বিশেষ আকর্ষণ

প্রতি বছর চৈত্র মাসে এখানে এক বিশাল মেলা বসে, যাকে পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেলা বলা হয় লক্ষ লক্ষ মানুষ এই মেলায় ভিড় জমান এবং মায়ের কাছে মানত করেন

পশ্চিম মেদিনীপুরের মাতপুর মনসা মন্দির ঘিরে বহু প্রাচীন রোমাঞ্চকর জনশ্রুতি বা লোককথা প্রচলিত আছে স্থানীয় মানুষ এবং ভক্তদের বিশ্বাসে এই মন্দিরটি এক অলৌকিক শক্তির আধার

নিচে প্রধান জনশ্রুতিগুলো দেওয়া হলো:

. ছাদ না থাকার রহস্য (সবচেয়ে জনপ্রিয়)

জনশ্রুতি আছে যে, দেবী মনসা এখানে খোলা আকাশের নিচে থাকতেই পছন্দ করেন কথিত আছে, অতীতে বহুবার মন্দিরে ছাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু প্রতিবারই ছাদ তৈরির কাজ শেষ হওয়ার আগেই তা রহস্যজনকভাবে ভেঙে পড়েছে অথবা মিস্ত্রিরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী নিজেই চান না তাঁর মাথায় কোনো কৃত্রিম ছাদ থাকুক

. জমিদার যোগেশ্বর রায়ের স্বপ্নাদেশ

প্রায় ৪০০ বছর আগেকার কথা মাতপুরের তৎকালীন জমিদার যোগেশ্বর রায় এক রাতে দেবী মনসার স্বপ্নাদেশ পান দেবী তাঁকে নির্দেশ দেন একটি নির্দিষ্ট জায়গায় তাঁর মন্দির স্থাপন করতে কিন্তু সেখানে মন্দির তৈরির পর যখনই ছাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তখনই দেবী আবার স্বপ্নে দেখা দিয়ে জানান যে তিনি "মুক্ত বাতাসের দেবী" এবং তাঁর কোনো ছাদের প্রয়োজন নেই সেই থেকে আজও মন্দিরটি ছাদহীন

. পুরোহিত ছাড়া পূজা

এই মন্দিরের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানে কোনো জাতি-ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ নেই এবং পূজার জন্য কোনো নির্দিষ্ট পুরোহিত লাগে না জনশ্রুতি অনুযায়ী, মা মনসা নিজেই চেয়েছিলেন তাঁর সন্তানরা (ভক্তরা) সরাসরি তাঁর পূজা করুক তাই এখানে ভক্তরা নিজেরাই ভক্তিভরে মায়ের পায়ে ফুল-জল অর্পণ করেন

. অলৌকিক সাপ মানত

স্থানীয়দের বিশ্বাস, মন্দির চত্বরে বা আশেপাশের জঙ্গলে অনেক বিষধর সাপ ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু তারা কাউকে আক্রমণ করে না মানুষ বিশ্বাস করেন, এই সাপেরাই হলো দেবীর রক্ষীবাহিনী এছাড়া এখানে ডাল বা গাছে সুতো বেঁধে মানত করলে তা নিশ্চিতভাবে পূরণ হয়এমন গভীর বিশ্বাস মানুষের মনে গেঁথে আছে

. চৈত্র মাসের মেলা

চৈত্র মাসে এখানে যে বিশাল মেলা বসে, সেটি ঘিরেও নানা গল্প শোনা যায় কথিত আছে, আগে এই মেলায় অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ পায়ে হেঁটে আসতেন এবং মন্দিরের পুকুরে স্নান করলে নাকি চর্মরোগ বা অন্যান্য কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যেত

 

 



0 Reviews