মহাভারতের বনপর্ব  ঘোষযাত্রা ও দুর্যোধন উদ্ধার: গন্ধর্বদের হাতে বন্দী দুর্যোধনকে পাণ্ডবদের দ্বারা উদ্ধার

মহাভারতের বনপর্ব ঘোষযাত্রা ও দুর্যোধন উদ্ধার: গন্ধর্বদের হাতে বন্দী দুর্যোধনকে পাণ্ডবদের দ্বারা উদ্ধার

Size

Read more

 


মহাভারতের বনপর্ব  ঘোষযাত্রা ও দুর্যোধন উদ্ধার: গন্ধর্বদের হাতে বন্দী দুর্যোধনকে পাণ্ডবদের দ্বারা উদ্ধার

মহাভারতের বনপর্বের অন্তর্গতঘোষযাত্রাউপাখ্যানটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এটি মূলত দুর্যোধনের দর্পচূর্ণ এবং পাণ্ডবদের, বিশেষত যুধিষ্ঠিরের মহত্ত্ব প্রকাশের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

নিচে এই ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:

. ঘোষযাত্রার প্রেক্ষাপট

পাণ্ডবরা তখন দ্বৈতবনে বনবাস জীবন কাটাচ্ছেন দুর্যোধন, শকুনি কর্ণ পাণ্ডবদের এই চরম দুর্দশা সচক্ষে দেখে আনন্দ উপভোগ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু সরাসরি যাওয়া দৃষ্টিকটু হবে বলে তারা 'ঘোষযাত্রা' (পশুগণনা বা গবাদি পশু তদারকি) বাহানা করে সসৈন্যে দ্বৈতবনের দিকে রওনা হন

. গন্ধর্বদের সাথে সংঘাত

দ্বৈতবনের কাছে একটি সরোবরে দুর্যোধন তার শিবির স্থাপন করতে চাইলে সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত গন্ধর্বরাজ চিত্রসেন তার সঙ্গীরা বাধা দেন দুর্যোধন অহংকারবশত গন্ধর্বদের আক্রমণ করলে যুদ্ধ শুরু হয় কিন্তু গন্ধর্বদের মায়াবী যুদ্ধের সামনে কৌরব সেনারা পরাজিত হয়ে পালিয়ে যায় গন্ধর্বরাজ চিত্রসেন দুর্যোধনকে সপরিবারে (ভ্রাতৃগণ রাজমহিষীসহ) বন্দী করেন

. যুধিষ্ঠিরের মহানুভবতা

কৌরবদের কিছু সৈন্য পালিয়ে গিয়ে যুধিষ্ঠিরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে ভীম তখন এই পরিস্থিতিতে খুশি হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে, তাদের কাজ গন্ধর্বরাই করে দিচ্ছে কিন্তু যুধিষ্ঠির তখন তার বিখ্যাত নীতিবাক্যটি উচ্চারণ করেন:

"পরৈঃ পরিভবে প্রাপ্তে বয়ং পঞ্চোত্তরং শতম্"

(অর্থাৎ: নিজেদের মধ্যে বিবাদ থাকলেও, বাইরের শত্রুর কাছে আমরা ১০৫ ভাই)

তিনি ভীম অর্জুনকে আদেশ দেন দুর্যোধনকে উদ্ধার করার জন্য, কারণ দুর্যোধন তাদেরই ভাই এবং কুলমর্যাদা রক্ষা করা তাঁদের কর্তব্য

. দুর্যোধন উদ্ধার

যুধিষ্ঠিরের আদেশে ভীম অর্জুন গন্ধর্বদের আক্রমণ করেন অর্জুনের সাথে চিত্রসেনের প্রবল যুদ্ধ হয় চিত্রসেন অর্জুনের পূর্ব পরিচিত মিত্র ছিলেন, তাই পরিচয় পাওয়ার পর যুদ্ধের অবসান ঘটে অর্জুন ভীম গন্ধর্বদের হাত থেকে দুর্যোধনকে মুক্ত করেন এবং তাকে যুধিষ্ঠিরের সামনে নিয়ে আসেন

. পরিণাম গ্লানি

যুধিষ্ঠির অতি বিনয়ের সাথে দুর্যোধনকে উপদেশ দিয়ে বিদায় দেন কিন্তু এই উদ্ধার প্রাপ্তি দুর্যোধনের কাছে ছিল চরম অপমানের যাকে তিনি তুচ্ছ করতে এসেছিলেন, তাঁর হাতেই জীবন রক্ষা পাওয়ায় তিনি লজ্জিত মর্মাহত হন এই গ্লানি থেকেই পরবর্তীতে তিনি আমরণ অনশনের (প্রয়োপবেশন) সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যদিও পরে কর্ণ শকুনি তাকে নিবৃত্ত করেন

 

0 Reviews