লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি,

লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি,

Size

Read more

 





লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি

নরসিংদী জেলায় অবস্থিত লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি, যা স্থানীয়দের কাছে ডাঙ্গা জমিদার বাড়ি বা উকিল বাড়ি নামেও পরিচিত

ভিডিওতে এই বাড়িটি সম্পর্কে বেশ কিছু চমৎকার তথ্য দেওয়া হয়েছে:

বাড়ির বৈশিষ্ট্য ইতিহাস

একমাত্র দেবোত্তর সম্পত্তি: এটি ছিল তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের একমাত্র 'দেবোত্তর' বা ওয়াকফকৃত সম্পত্তি কারণে বড় কোনো জমিদারের অধীনে থেকেও এই বাড়ির জমিদারকে কখনও খাজনা দিতে হয়নি

স্থাপত্য: দুই তলা বিশিষ্ট এই প্রাসাদে চমৎকার কারুকার্য রয়েছে এতে রাধা গোবিন্দ মন্দির, নাট মন্দির এবং মঠ অবস্থিত

উকিল বাড়ি নামের কারণ: জমিদার লক্ষণ সাহার নাতি এক উকিল সাহেবের কাছে বাড়িটি বিক্রি করে ভারতে চলে যান তখন থেকে এটি 'উকিল বাড়ি' নামেও পরিচিতি পায়

অবস্থান

বাড়িটি নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নে অবস্থিত এটি এখন একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান এবং অনেকে এখানে ভিডিও বা শর্ট ফিল্ম শুটিং করতে আসেন

নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে অবস্থিত লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়ি একটি চমৎকার ঐতিহাসিক নিদর্শন স্থানীয়ভাবে এটিও 'উকিল বাড়ি' বা 'ডাঙ্গা জমিদার বাড়ি' নামে অত্যন্ত পরিচিত

এই বাড়িটির ইতিহাস এবং বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:


. পটভূমি নামকরণ

প্রতিষ্ঠাতা: জমিদার লক্ষণ সাহা এই বাড়িটি নির্মাণ করেন তিনি মূলত প্রধান জমিদারের অধীনে একজন সাব-জমিদার ছিলেন

উকিল বাড়ি বলার কারণ: লক্ষণ সাহার বংশধর বৌদ্ধ নারায়ণ সাহা পরবর্তীতে বাড়িটি আহম্মদ আলী নামক এক আইনজীবীর (উকিল) কাছে বিক্রি করে দেন আহম্মদ আলী পেশায় উকিল হওয়ায় সাধারণ মানুষ একে 'উকিল বাড়ি' বলতে শুরু করে তিনি তার স্ত্রীর নামানুসারে বাড়িটির নাম দিয়েছিলেন 'জামিনা মহল'

. স্থাপত্য কাঠামো

শৈলী: ভবনটি মুঘল এবং ঔপনিবেশিক (ইউরোপীয়) স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য মিশ্রণে তৈরি এটি একটি দ্বিতল ভবন, যাতে মোট ২৪টি কক্ষ রয়েছে

বৈশিষ্ট্য: বাড়ির মেঝেতে কষ্টি পাথর এবং লাল রঙের ঢালাই দেখা যায় ভবনের দেয়ালে নিপুণ কারুকাজ এবং দৃষ্টিনন্দন খিলান রয়েছে

পারিপার্শ্বিকতা: বাড়ির পেছনে একটি বড় বাগান এবং সামনে শানবাঁধানো পুকুরঘাট রয়েছে একসময় পুকুরের চারপাশে পূজা করার জন্য তিনটি মঠ বা মন্দির ছিল, যার একটি এখনো টিকে আছে

. উত্তরাধিকারী বর্তমান অবস্থা

লক্ষণ সাহার তিন ছেলে ছিলেননিকুঞ্জ সাহা, পেরিমোহন সাহা বঙ্কু সাহা দেশভাগ এবং পরবর্তী সময়ে তাদের বংশধরেরা ভারতে চলে যান বর্তমানে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও এর শৈল্পিক কারুকার্য দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা এখানে আসেন যদিও সংস্কারের অভাবে ভবনটি কিছুটা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে


যাতায়াত পদ্ধতি

ঢাকা থেকে যারা যেতে চান, তারা কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে ৩০০ ফিট দিয়ে কাঞ্চন ব্রিজ পার হয়ে 'মায়ার বাড়ি' নামক স্থানে নামবেন সেখান থেকে অটোরিকশা যোগে সরাসরি ডাঙ্গা বাজার বা লক্ষণ সাহার জমিদার বাড়িতে যাওয়া যায়

 

 

0 Reviews