প্রাকৃত অপভ্রংশ  কাব্যের বর্ননায় বর্তমানে বাংলার স্থান সমুহ

প্রাকৃত অপভ্রংশ কাব্যের বর্ননায় বর্তমানে বাংলার স্থান সমুহ

Size

Read more

 


প্রাকৃত অপভ্রংশ  কাব্যের বর্ননায় বর্তমানে বাংলার স্থান সমুহ

প্রাকৃত অপভ্রংশ সাহিত্যে (বিশেষ করে অবহট্ট স্তরে) সরাসরি বর্তমানের মতো জেলাভিত্তিক সীমানা না থাকলেও, তৎকালীন 'গৌড়-বঙ্গ' বা 'প্রাচ্য' অঞ্চলের বর্ণনায় আধুনিক বাংলার বেশ কিছু ভৌগোলিক সাংস্কৃতিক স্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়

নিচে প্রাকৃত-অপভ্রংশ কাব্যের বর্ণনায় বর্তমান বাংলার স্থানসমূহের প্রতিফলন আলোচনা করা হলো:

. গৌড় (বর্তমান মালদহ মুর্শিদাবাদ)

অপভ্রংশ প্রাকৃত সাহিত্যে 'গৌড়' শব্দটির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি

বর্তমান অবস্থান: এটি বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ জেলা এবং মুর্শিদাবাদ জেলার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল

বর্ণনা: তৎকালীন কাব্যে গৌড়কে বিদ্যা, সংস্কৃতি এবং ঐশ্বর্যের কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এখানকার নারীদের সৌন্দর্য এবং পুরুষদের পাণ্ডিত্যের কথা বিভিন্ন শ্লোকে পাওয়া যায়

. বঙ্গ রাঢ় (দক্ষিণ পশ্চিম বঙ্গ)

প্রাকৃত পৈঙ্গল বা বিভিন্ন অপভ্রংশ দোহার বর্ণনায় 'বঙ্গ' এবং 'রাঢ়' অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়

বঙ্গ (পূর্ববঙ্গ): এটি মূলত বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, বিক্রমপুর ফরিদপুর অঞ্চলকে নির্দেশ করত 'বঙ্গাল' দেশের মানুষের ভাষা জীবনযাত্রা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক বা কৌতূহলী বর্ণনা অপভ্রংশ কাব্যে দেখা যায়

রাঢ় (পশ্চিমবঙ্গ): বর্তমান বীরভূম, বাঁকুড়া, বর্ধমান মেদিনীপুর অঞ্চল এখানকার রুক্ষ মাটি, শাল বন এবং অরণ্যচারী মানুষের জীবনচিত্র অপভ্রংশ সাহিত্যে ফুটে উঠেছে

. সমতট হরিকেল (পূর্ব দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গ)

প্রাচীন প্রাকৃত লিপি কিছু কাব্যিক বর্ণনায় উপকূলীয় অঞ্চলের ইঙ্গিত মেলে

বর্তমান অবস্থান: এটি বর্তমান বাংলাদেশের কুমিল্লা, নোয়াখালী চট্টগ্রাম অঞ্চল

বর্ণনা: এই অঞ্চলগুলো তখন সমুদ্র বা নদীতীরবর্তী বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল

. পুণ্ড্রবর্ধন (উত্তরবঙ্গ)

প্রাকৃত সাহিত্যে উত্তরবঙ্গের উর্বর ভূমি এবং কৃষি ব্যবস্থার প্রশংসা পাওয়া যায়

বর্তমান অবস্থান: এটি বর্তমান বাংলাদেশের বগুড়া (মহাস্থানগড়), দিনাজপুর এবং পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর মালদহ জেলা

নিদর্শন: এখানকার পলিমাটি আখের (ইক্ষু) চাষের বর্ণনা তৎকালীন সাহিত্যে খুবই প্রসিদ্ধ ছিল


প্রাকৃত-অপভ্রংশ আধুনিক বাংলার তুলনামূলক সারণি:

প্রাচীন নাম (কাব্য অনুযায়ী)

বর্তমান ভৌগোলিক স্থান

প্রধান বৈশিষ্ট্য

গৌড়

মালদহ, মুর্শিদাবাদ (পশ্চিমবঙ্গ)

রাজধানী, পাণ্ডিত্য রাজকীয় জাঁকজমক

রাঢ়

বীরভূম, বাঁকুড়া, বর্ধমান

লাল মাটি, বনজ সম্পদ শ্রমজীবী মানুষ

বঙ্গ/বঙ্গাল

ঢাকা, বিক্রমপুর (বাংলাদেশ)

নদীমাতৃক জীবন নৌকাকেন্দ্রিক বাণিজ্য

পুণ্ড্র

বগুড়া, দিনাজপুর, মালদহ

উন্নত কৃষি প্রাচীন নগর সভ্যতা


. গঙ্গা ভাগীরথী তীর

প্রাকৃত কাব্যে গঙ্গা নদীর পবিত্রতা এর দুপাশের জনপদের বর্ণনা পাওয়া যায় বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের নদীবিধৌত জনপদগুলোই সেই প্রাচীন বর্ণনার বাস্তব রূপ

0 Reviews